মমেক ছাত্রাবাসে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত, হল ছাড়ার নির্দেশ

আপডেট: April 18, 2026 |
inbound8003000070584228232
print news

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নোটিস দেয়া হয়েছে।

একই সাথে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান।

শনিবার সকালে তার স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার রাতের ঘটনায় শনিবার একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী সাত দিনের জন্য সব প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এবং শনিবার সকালেই শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানান অধ্যক্ষ ।

কলেজের অধ্যাপক সেহেলী জান্নাত সুলতানাকে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্টি এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য অধ্যাপক শামীমুল মাসুদ আহমেদ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল হক। এই কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাঘমাড়া ছাত্র হোস্টেলে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে কলেজের তৃতীয় বর্ষের দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তারা হলেন, মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর।

এর মধ্যে মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ পক্ষের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ পক্ষের কর্মী বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার রাতে মীর হামিদুরের কক্ষে যান মুয়াজ। সেখানে বাইকে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি পরে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।”

এ সময় হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

পরে হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের পক্ষের লোকজনের ধাওয়া খেয়ে একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন মুয়াজ। তাকে উদ্ধার করতে তার পক্ষের লোকজন এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “সকালে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামিদুর হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। তাদের দুইজনের মাথায় আঘাত করা হয়েছে।”

ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।”

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান বলেন, ”আগামী সাত দিনের জন্য সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর