বর্ষার জলরঙে সাজছে জাবি

আপডেট: June 26, 2026 |
print news

আমিনা হোসাইন বুশরা, জাবি প্রতিনিধি: ‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বৃষ্টি হয় জাবিতে’-কথাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ প্রচলিত একটি বাক্য। এই প্রচলনের কারণ অবশ্য বেশ যৌক্তিক।

প্রকৃতি তো বারবার বেঁচে ওঠে এই জাবিরই প্রাঙ্গণে। তাই এই কথা কেবল একটি বাক্য নয়, এক টুকরো অনুভূতির নাম। যারা জাবির বর্ষা একবারও কাছ থেকে দেখেছেন, তারা জানেন, এই কথার পেছনে রয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, অনুভূতি আর বাস্তবতার ছোঁয়া।

সবুজে ঘেরা বিশাল ক্যাম্পাস, বৃষ্টির প্রথম ফোঁটায় ভেসে আসা সোঁদা মাটির গন্ধ, ফুলে-ফলে ভরা গাছপালা, পাখিদের কোলাহল আর নির্মল প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন, সব মিলিয়ে জাহাঙ্গীরনগরের বর্ষা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

আকাশ কালো করে যখন মেঘ জমে, মনে হয় জাবির আকাশে কেউ ধূসর রঙের পোচ দিয়েছে। বৃষ্টি নামলেই ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।

প্রকৃতি যেন নিজেই ধুয়ে-মুছে আরও সজীব, আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সবুজ পাতাগুলো ধুয়ে যখন চকচকে হয়ে ওঠে, মনে হয় ক্যানভাসের জলরঙগুলো কেবলই শুকোলো।

জাহাঙ্গীরনগরে পড়াশোনা করেছেন অথচ কোনো এক ঝুম বর্ষণে বন্ধুদের সঙ্গে ভিজে ওঠেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।

আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলেই দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ প্রিয় মানুষের হাত ধরে, আবার কেউ একান্ত নিজের সঙ্গেই উপভোগ করে সেই মুহূর্তগুলো।

আষাঢ়ের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রাণ ফিরে পায় জাবির চৌরঙ্গী, শহিদ মিনার, হলের মাঠ, ক্যাফেটেরিয়ার সামনের পথ, আর হলগুলোর ছাদ।

বৃষ্টির ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। ডালপালায় আশ্রয় নেওয়া পাখিরাও যেন এই উৎসবের সঙ্গী হয়ে ওঠে, প্রকৃতি আর মানুষের আনন্দ একাকার হয়ে যায়।

ঢাকার ব্যস্ততা, কংক্রিটের যান্ত্রিক জীবন আর শহুরে কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে জাহাঙ্গীরনগরের এই বর্ষার রূপ যে কারও মনকে মুহূর্তেই প্রশান্ত করে দিতে পারে। এখানকার বৃষ্টি ভিজিয়ে দেয় মনও।

তাই অনেকের কাছেই জাহাঙ্গীরনগরের এই প্রকৃতি, এই বর্ষা, এই পরিবেশ যেন শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের খোরাক। কেউ প্রশান্তি খুঁজলে তো খুঁজে পাবে এখানেই।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর