মেয়েদের শিক্ষা হবে ‘ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি’, আসছে ‘এলপিজি কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী

মেয়েরা যাতে বেতন ছাড়াই ‘ডিগ্রি পর্যন্ত’ পড়াশোনা করতে পারে, তা সরকার নিশ্চিত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশের জনসংখ্যা এই যে প্রায় ২০ কোটি, এর অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই নারীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফ্রি করে দিয়েছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়ে, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে।
“খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা আরও সামনে নিয়ে যেতে চাই। এই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, ইনশাআল্লাহ নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ বিনামূল্যে ব্যবস্থা করব।”
সোমবার দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলায় খুলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সাথে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে, যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার কথা বললেও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল—মেয়েদের স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক ও সমপর্যায় অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি সম্প্রসারণ করা হবে।
নারীরা পাবেন ‘এলপিজি কার্ড’
পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য বিএনপির যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা মিলবে, যা দিয়ে একজন নারী সন্তানকে ভালো খাবার খাওয়াতে পারবে। সেই সঙ্গে হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালনের মাধ্যমে নিজের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারবে।
নারীদের জীবনকে আরও সহজ করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, “আমরা দুদিন আগে আরেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এই মা-বোনদের একটি ব্যাপারে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক বা শহরের মা-বোনই হোক।
“আমরা যেরকম সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ করতে চাই- সেটি হবে ‘এলপিজি কার্ড’। ‘এলপিজি গ্যাস’- এটি আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দেব, যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।”
‘তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়’
জামায়াত জোটকে ইংগিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে।
সরকারপ্রধান বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনাদেরকে সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়, যারা জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উপস্থাপন করতে চায়, এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।
“এই বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করতে পারে তারা, তাহলে জনগণের যে কর্মসূচি— ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, মা-বোনদের যে কর্মসূচি, কৃষকদের কৃষি কার্ডের যে কর্মসূচি, খাল খননের যে কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য মিল-কারখানা চালু করার যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি— সকল কর্মসূচি ব্যাহত হবে, এই বিশৃঙ্খলা যদি প্রশ্রয় পায়।”
তারেক রহমান বলেন, “আজকে আমরা দেখেছি বিগত সাড়ে সতেরো বছর থেকে বিভিন্ন সময় কারা কারা দেশে অশান্তির চেষ্টা করেছে, বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছে। যতবার বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, অতীতে আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে কীভাবে ১৭৩ দিন হরতাল করা হয়েছিল—মনে আছে আপনাদের?
“১৭৩ দিন কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এখনো আমার সেই ভূত আরেকজনের কাছে গিয়ে আছর করেছে। আপনাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি—আমরা যারা শহীদি দল করি, আমরা যারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সৈনিক; আমরা বিশ্বাস করি—এই দেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম, এই দেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি—‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’।”
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
“এখন আজকে আমরা এসেছি এই খালটি আবার পুনঃখনন করতে, গত প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটিকে খনন করেছিলেন এবং এই প্রায় চার কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করতে পারি, তাহলে এই এলাকার মানুষ পানি পাবে।
“পানি পেলে কী হবে? আমরা দেখেছি, প্রায় ২০ হাজারের মত কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, প্রায় ১৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে, প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এই খালে পানি আসলে।”
তিনি বলেন, “এই খালে পানি থাকলে উপকারটা কাদের হবে ভাই? এই এলাকার মানুষের হবে। শুধু তাই নয়, ইনশাল্লাহ এই খাল পুনঃখনন যখন শেষ হয়ে যাবে, আমরা ইনশাল্লাহ এই খালের দু‘পাশ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করব।
“যারা ঘরে হাঁস পালন বা হাঁস পালতেন আগে; কিন্তু এই খালে পানি না থাকার কারণে অনেকের ঘরে সেটা সম্ভব হয় না। কিন্তু যখন খালে পানি থাকে, তখন মা-বোনদের জন্য একটি বাড়তি রোজগারের সুবিধা হবে হাঁস পালনের মধ্যে দিয়ে।
“আমরা যদি সকলে মিলে পরিশ্রম করি তাহলে অবশ্যই ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।”
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।













