রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল টাইগাররা

আপডেট: April 27, 2026 |
inbound5820570355319566459
print news

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে জয় পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ১৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট ও ১২ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা। এই প্রথম কিউইদের বিপক্ষে ১৮৩ রান তাড়া করে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

এই জয়ের মাধ্যমে একটি রেকর্ড করেছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ।

এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। এদিকে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১৫ করে জিতেছিল টাইগাররা।

১৮৩ রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৫.৩ বলে ৪১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। আর আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন সাইফ। আরেক ওপেনার তানজিদ করেন ২৫ বলে ২০ রান। এদিকে, ১৫ বলে ২১ রানে থামেন দলনেতা লিটন দাস।

১০.১ ওভারে ৭৭ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটেই পড়ে বাংলাদেশ দল। এমতাবস্থায় চতুর্থ উইকেটে দলের ভরসা জোগায় চতুর্থ উইকেট জুটি। মাত্র ২৮ বলে ৫৬ রান তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমন।

শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের গড়া জুটিটা ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ১৯ বলে ৪৯ রানের অপ্রতিরোধ্য পার্টনারশিপ গড়েন হৃদয়-শামীম। তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৯ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি দু’টি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। আর মাত্র ১৩ বলে তিনটি চার ও দু’টি ছয়ে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন শামীম।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দু’টি উইকেট পেয়েছেন ইশ সোধি। আর একটি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

এর আগে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক লিটন। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার টিম রবিনসন।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর চাপ সামলে নেন ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। এসময় দু’জন মিলে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। আর এই দুই কিউই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। আউট হওয়ার আগে দু’জনই করেন ৫১ রান। ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করেন ক্লার্ক। আর মাত্র ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রানে থামেন ক্লেভার।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর পর রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা নিউজিল্যান্ড পরের ৫ ওভারে করে মাত্র ৩০ রান। এর মাঝেই বেভন জ্যাকবস ১ রানে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন।

এরপর ফের একবার রানের চাকা সচল করেন অধিনায়ক নিক কেলি। কিন্তু ইনিংস শেষ করে ফিরতে পারেননি তিনি। শরিফুল ইসলামের করা বলে আউট হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।

ম্যাচে ১৩০ রানে ৫ উইকেট হারালেও অধিনায়ক নিক কেলির ২৭ বলে ৩৯ ও জশ ক্লার্কসনের অপরাজিত ১৪ বলে ২৭ রানে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দু’টি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন শরিফুল, তানজিম ও মাহেদি।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর