চাঁদাবাজি করতে গিয়ে দৌড়ে পালালো সাংবাদিক দেওয়ান ইমন!

ঢাকার সাভার এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত করেছেন দেশ টিভির সাভার প্রতিনিধি দেওয়ান ইমন।
এর আগে বেশ কয়েকবার চাঁদাবাজি করতে গিয়ে মারধরের শিকারও হয়েছেন দেওয়ান ইমন। তার নামে রয়েছে সাভার থানায় কয়েকটি চাঁদাবাজি মামলা। কিছু অনিবন্ধিত ভুঁইফোঁড় অনলাইন ও নামে বেনামে ফেসবুক পেজ ব্যবহারকারীদের নিয়ে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। তারা যেখানে যান সেখানে মোটা অংকের চাঁদা না নিয়ে ফেরেন না কোন ভাবেই।
সবশেষ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সিন্ডিকেটের দলবল নিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাস্তায় দাড়িয়ে থেকে সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ধাওয়া খেয়ে পালাতে হয়েছে তাকে। সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে ভুঁইফোঁড় বাহিনি নিয়ে মব তৈরি চেষ্টাকালে ক্ষুব্ধ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা নারী-পুরুষ সকলেই নিচে নেমে এসে তাকে ধাওয়া করে। সাংবাদিকতার আড়ালে এভাবে গ্রুপিং করে চাঁদাবাজি তার নিত্য দিনের ব্যবসা।
একজন দলিল লেখক বলেন, সাংবাদিক দেওয়ান ইমন দীর্ঘদিন ধরে এই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কাজে বাঁধাগ্রস্থ করে আসছে বিভিন্ন ভাবে। তার এই বাহিনির যন্ত্রণায় আজ আমরা রাস্তায় নেমে ধাওয়া করতে বাধ্য হয়েছি।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিচে নেমে আসেন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।
জানা যায়, জীবনে শিক্ষার কোন আলো না দেখলেও ক্যামেরা ম্যান হিসেবে এনটিভির সাভার প্রতিনিধি জাহিদ হোসেনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। কয়েক বছরের মধ্যে সেই সাংবাদিক জাহিদের ছত্র ছায়ায় ইমন বনে যান সাংবাদিক। দেশ টিভিতে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে নিয়ে নেন সাভার প্রতিনিধির দায়িত্ব। এরপর থেকে হয়ে উঠেন সাভারের ভয়ংকর সাংবাদিক। মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের হুমকি দিয়ে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও আমলাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমান টাকা।
সাভারের একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, দেশটিভির সাংবাদিক দেওয়ান ইমনের যন্ত্রনায় কেউ ব্যাবসা করেও খেতে পারেন না। এমনকি বিয়ে বাড়িতেও কনের বয়স জানার জন্য চলে যান ইমন। কোন ক্রমে কনের বয়স ১৮ এর নিচে হলে তাকে দিতে হয় লাখ টাকা চাঁদা। তাদের এমন ভুয়া সাংবাদিক সিন্ডিকেটের যন্ত্রনায় এলাকাবাসি অতিষ্ট, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের রাস্তার সামনে, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের রাস্তার সামনে নিজের দলবল নিয়ে দাড়িয়ে থাকে ইমন। আসলে সে সাংবাদিকতার একটা কার্ড নিয়ে চাঁদাবাজি করে।
সাভারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশের ওসি, সাব রেজিস্ট্রার থেকে শুরু করে তার ছোবল থেকে বাদ যায় না কেউ।
ইমনের নিত্যদিনের সঙ্গী চাঁদাবাজি করতে গিয়ে এবার আটকে গেছেন সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসে। সেখানে মব তৈরি করে নিয়মিত চাঁদার জন্য আসতো দেওয়ান ইমন। নিয়মিত চাঁদা না দিলে সংবাদ পরিবেশন করে চরিত্র হণনের হুমকিও নিয়মিত দিয়ে আসছে সে।
সপ্তাহ খানেক আগে সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ১৫-৩০ জন ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক নিয়ে নিউজ করার হুমকি দিলে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন পাল্টা নিউজ করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কক্ষ ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। এরপর শুরু হয় নতুন খেলা। সোমবার দুপুরে বেশ অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারিকে নিয়ে হোটেলে খাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে দেওয়ান ইমন আবারও মব করার প্রস্তুতি নেন। এতে সঙ্গে ছিলেন ইমনসহ তার চাঁদা আদায়ের সহযোগী ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক নামধারীরাও। এক পর্যায়ে সাভার সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন তার দিকে তেড়ে গেলে সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজদের নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান দেওয়ান ইমনসহ বাকি সাংবাদিকরাও।
পরে দেশটিভির সাংবাদিক দেওয়ান ইমনের সাথে আসা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় এলাকাবাসিসহ দলিল লেখকরা।
এ বিষয়ে সাভার প্রেসক্লাব নেতাদের সাথে কথা বললে তারা জানান , এই ধরনের চাঁদাবাজে অভিযুক্তদের কোন প্রশ্রয় দেওয়া হবে না তারা । সাংবাদিকতার অপেশাদার আচরনকারীদের সাথে তাদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই।














