মমতার পদত্যাগে অস্বীকৃতি, পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক সংকটের শঙ্কা

আপডেট: May 7, 2026 |
inbound8822184591390454530
print news

ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেছেন, “তারা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই আজকের দিনটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক। সব রেকর্ড থাকুক।”

তার এই রণংদেহি মনোভাবকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বুধবার দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা জানান, গত ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে তার দল আদালতে যাবে।

তবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে সামনের সারিতে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী জোর দিয়ে দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে কোনও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ঘটছে না।

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা ২০২১ সালের তুলনায় অনেক কম। কিছু দুষ্কৃতকারী এখনো সক্রিয় আছে, তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

মমতা বুধবার দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি একটি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলা নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি ‘ডিসিপ্লিনারি কমিটি’ গঠন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

দলীয় কর্মীদের রাজপথের লড়াইয়ে সক্রিয় রাখতে চান মমতা। এর অংশ হিসেবে বিধানসভার প্রথম দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

৭১ বছর বয়সী এই নেত্রী শুরু থেকেই তার পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে আসছেন। কমিশনের বিরুদ্ধে ‘নোংরা খেলার’ অভিযোগ তুলে তিনি মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনের উদাহরণ টেনেছেন।

মমতা পদত্যাগ না করার ঘোষণায় সরগরম হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজনীতি। আইন বিশেষজ্ঞরা সংবিধানের নিয়মাবলী খুঁজে দেখছেন, যদিও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ‘এসওপি’ বা নির্দেশিকা নেই।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজ্যপাল চাইলে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন। কারণ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে পদে থাকেন এবং বর্তমান বিধানসভা ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে, বৃহস্পতিবার। ফলে আইনি সমাধান খোঁজার জন্য হাতে সময় একদমই নেই। ইতোমধ্যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও মমতাকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের কাছে।

আইনত, বিধানসভার আস্থা না থাকলে কোনও মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারেন না। যেহেতু বিজেপি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তাই সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল নতুন সরকার গঠনের জন্য বিজেপিকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।

তৃণমূল নেত্রী মমতা মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে না দাঁড়ালে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনাও আরেকটি বিকল্প।তবে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর