যুদ্ধের মধ্যে নেতানিয়াহুর ‘গোপন সফর’ অস্বীকার করল আমিরাত

আপডেট: May 14, 2026 |
inbound6157452587787036251
print news

ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবুধাবিতে ‘গোপন সফর’ করেছেন বলে তাঁর দপ্তরের দাবি নাকচ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সামরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিকুদ পার্টির এই নেতা সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (পিএমও) দাবি অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর এই সফরের ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও আমিরাতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি হয়েছে।

দাবি প্রত্যাখ্যান করল আমিরাত

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এ দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্ট জানাচ্ছে যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর কিংবা দেশে কোনো ইসরায়েলি সামরিক প্রতিনিধিদল গ্রহণের খবরগুলো সঠিক নয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমিরাত পুনরুল্লেখ করছে যে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং তা সুপরিচিত ও দাপ্তরিকভাবে ঘোষিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর কাঠামোর আওতায় পরিচালিত। এর বাইরে অস্বচ্ছ বা অনানুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এ ধরনের অঘোষিত সফর বা গোপন চুক্তির যেকোনো দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত ২৬ মার্চ নেতানিয়াহু ও শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সাক্ষাৎ করেছিলেন। মূলত চলমান যুদ্ধের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের সমন্বয় করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। নেতানিয়াহুর দপ্তরের করা পোস্টের পর রয়টার্স এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

নেতানিয়াহুর দপ্তরের এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি প্রকাশ করেন যে ইরান যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিচালনার জন্য ইসরায়েল তাদের ‘আয়রন ডোম’ ইন্টারসেপশন সিস্টেমের ব্যাটারি পাঠিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম দিকেই ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

ইরানের হুঁশিয়ারি

তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘আঁতাত’ করা দেশগুলোকে জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, ‘ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের যে দাবি করা হয়েছে, তার মাধ্যমে নেতানিয়াহু এখন প্রকাশ্যে সেটাই উন্মোচন করেছেন, যা ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগেই আমাদের নেতৃত্বকে জানিয়েছিল।’

আরাগচি আরও লেখেন, ‘ইরানের মহান জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করা একটি বোকামিপূর্ণ জুয়া। আর এই কাজে ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করা ক্ষমার অযোগ্য। যারা বিভাজন সৃষ্টির লক্ষ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’

সূত্র: বিবিসি, হিন্দুস্তান টাইমস

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর