ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

আপডেট: May 27, 2026 |
inbound2150831747502534699
print news

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়।

ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনদের মধ্যেও। অসুস্থ শিশুদের চিন্তায় হারিয়ে গেছে পরিবারের ঈদ আনন্দ।

হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর মা রায়েবা আক্তার বলেন, কাল ঈদ কিন্তু আমাদের পরিবারে কোনো আয়োজন নেই। ছেলেকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে। ছেলের কষ্টে, আমাদের দৌঁড়াদুড়িতে এখন হাঁপিয়ে উঠছি, আল্লাহর রহমত ছাড়া ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়।

চিকিৎসাধীন আরেক শিশুর স্বজন ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ১০ মাস বয়সী ভাগনেকে নিয়ে গত একমাস ধরে ছোটাছুটি করছি। প্রতিদিন ওয়ার্ডে শিশু মারা যাওয়ায় আতঙ্ক কোনোভাবেই কাটছে না।

তবে ভাগনে আগের চেয়ে একটু ভালো রয়েছে। যদি হাসপাতালে আইসিইউ থাকত তাহলে এত চিন্তা করতাম না। তবে টিকার কার্যকারিতা শুরু হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ১৭ মাস বয়সী এক শিশু। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা শিশুটিকে গত ২০ মে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল।

পরে রাতে মৃত্যু হয় ৫ মাস বয়সী আরেক শিশুর। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা শিশুটিকে ৬ মে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৪ শিশু। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ শিশু। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৪৭ শিশু।

গত ১৭ মার্চ থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৫৩৫ শিশু।

হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, হামের টিকা নেওয়া শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ কমে আসছে। যার ফলে আক্রান্তের পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি কমছে। তবে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তারা হামের পাশাপাশি অন্য রোগেও আক্রান্ত ছিল।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর