সাতবারের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, গণমানুষের নেতা সাত বারের ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা দবিরুল ইসলাম আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
সাবেক এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মো. কামরুজ্জামান।
তিনি জানান, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৫ মে দবিরুল ইসলামকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার বালিয়াডাঙ্গীতে পারিবারিক গোরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হবে। তবে জানাজার সময় এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসন (বালিয়াডাঙ্গি, হরিপুর উপজেলা ও রানীশংকৈল উপজেলার একাংশ) থেকে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে ১৫-দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন।
এরপর ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং একই বছর নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন।
পরবর্তীতে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে টানা সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দবিরুল ইসলামের পরিবর্তে তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজনকে মনোনয়ন দেয় এবং সেই নির্বাচনে মাজহারুল ইসলাম জয়ী হন।
উল্লেখ্য যে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চাঁদা দাবি, জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
গত বছরের ২ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন।
এর কিছুদিন পর অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সেখানেই আজ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
















