ইরান চুক্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাচ্ছেন ট্রাম্প

আপডেট: May 30, 2026 |
inbound7741703577099387620
print news

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসি লিখেছে, শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীকে উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।

তিনি লিখেছেন, “আমি এখন ‘সিচুয়েশন রুমে’ বৈঠকে যাচ্ছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।”

তবে ইরান বলেছে, তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশালে’ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে তিনি প্রস্তুত এবং সেখানে আটকে পড়া জাহাজগুলো এখন ‘ঘরে ফেরার প্রক্রিয়া’ শুরু করতে পারে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়ে ধ্বংস করার সুযোগ দিতে হবে ইরানকে।

ট্রাম্প লিখেছেন, “পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।”

তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়ে ইতোমধ্যে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চুক্তির জন্য ইরানকে বেশ কিছু শর্ত দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে আছে কখনোই ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না। হরমুজ প্রণালিকে অবাধ জাহাজ চলাচলের জন্য আবার খুলে দিতে হবে এবং এই জলপথে থাকা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে শুক্রবার বলেন, “ইরান মূলত যুদ্ধ অবসানের দিকে মনোনিবেশ করছে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।”

আল জাজিরা লিখেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন বাকায়ি।

তিনি বলেন, “আর হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি ইরান ও ওমানের সিদ্ধান্তের বিষয়। হরমুজ প্রণালি নিয়ে সিদ্ধান্তে অন্য কোনো দেশের ভূমিকা নেই।”

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সিও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’। দুই পক্ষের সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করার কোনো শর্ত বা বিধান ছিল না।

বাকায়ির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্প ও তার প্রশাসন দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্বাক্ষরের প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে তারা। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, ট্রাম্প এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা একটি চুক্তির খসড়া, যা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে উভয় দেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু করা হবে আলোচনা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এ সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলে তা হবে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরান যেন উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করে এবং বর্তমান মজুদ ধ্বংস করে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে, যেখানে মার্কিন স্থাপনা রয়েছে, সেখানে হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং আলোচনা এগোচ্ছে। ট্রাম্প এক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তবে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর আসে। এরপরই শুক্রবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের বৈঠকে বসতে যাওয়ার খবর এল।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর