ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তির আশা ট্রাম্পের

আপডেট: June 6, 2026 |
inbound1208233006921704469
print news

আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মোদীকে ‘ভালো বন্ধু’ বললেন তিনি। একইসঙ্গে ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লি শিগগিরই একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

জবরদস্তিমূলক শ্রম ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে ভারতসহ ৫৪টি দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করার কয়েক দিনের মাথায় ট্রাম্পের এই আশ্বাস এল।

হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। কারণ আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রীকে অনেক পছন্দ করি। তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু। আমাদের মধ্যে ভাল বোঝাপড়া রয়েছে। আমাদের সম্পর্ক ভাল। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বছরের পর বছর ধরে মার্কিন পণ্যের ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক চাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালার সুবিধা নিয়েছে, যা তার বর্তমান নীতি পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।

আলোচনায় মার্কিন মোটরসাইকেল কোম্পানি ‘হার্লে-ডেভিডসন’-এর উদাহরণ টেনে ট্রাম্প বলেন, অতীতে ভারত এই ব্র্যান্ডের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যার ফলে কোম্পানিটি সেখানে নিজস্ব কারখানা তৈরি করতে বাধ্য হয়।

এর বিপরীতে ভারতীয় মোটরবাইক মার্কিন বাজারে কোনো শুল্ক ছাড়াই বিক্রি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো এবং যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছ থেকে ভালো অর্থ আয় করছে।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুই নেতার ফোনালাপের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছিল, যেখানে মার্কিন প্রশাসন ভারতের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়।

কিন্তু গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ঢালাও শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দিলে পরিস্থিতি বদলে যায়। আদালতের ওই রায়ের পর ট্রাম্প সব দেশের ওপর ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নতুন ঘোষণা দেন।

পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতেই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন করে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা চালাচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, অতীতের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার পরও তিনি বিশ্বাস করেন ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লি শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছবে। তার দাবি, বছরের পর বছর ভারত উচ্চ শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক থেকে লাভবান হয়েছে ভারত।

কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলে গিয়েছে। এখন ভারত থেকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। দুই দেশই অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়েছে।

এরই মধ্যে এবার চুক্তি করা নিয়ে আশার কথা শোনালেন ট্রাম্প। মোদীর সঙ্গে তার ইতিবাচক সম্পর্ক দু’পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর