ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ৩০ টিরও বেশি কোচ কাউন্টার, নেই শৌচাগারের ব্যবস্থা

আপডেট: June 18, 2026 |
print news

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার পৌরশহরের পশ্চিম চৌরাস্তার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার দুই পাশে দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য গড়ে উঠেছে ৩০টিরও বেশি বাস ও কোচ কাউন্টার।

প্রতিদিন এসব কাউন্টার থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন হাজারো যাত্রী।

তবে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এতগুলো কাউন্টারের একটিতেও নেই কোনো শৌচাগার বা টয়লেটের ব্যবস্থা। ফলে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের।

এছাড়াও রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠা ফুটপাতে অবৈধ দোকান ও কাউন্টার গুলোর গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় এবং তিন চাকার অটো, মিনিবাসের স্ট্যান্ড হওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তীব্র যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ পথচারী যান চালকদের । এতে প্রায় সময়ই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় পথচারীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পীরগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব চৌরাস্তা, পশ্চিম চৌরাস্তা এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-দিনাজপুরগামী বিভিন্ন নামী-দামী পরিবহনের ৩০টিরও বেশি বুকিং কাউন্টার রয়েছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব কাউন্টারে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। অনেক সময় দূরপাল্লার গাড়িগুলো ছাড়তে দেরি হলে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাউন্টারে অপেক্ষা করতে হয়।

কিন্তু এই দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে মলমূত্র ত্যাগের মতো জরুরি ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটানোর কোনো উপায় থাকে না এখানে।

শৌচাগার না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীরা। অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে নারীরা দীর্ঘক্ষণ পানি পান করা থেকে বিরত থাকেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

পুরুষ যাত্রীরা বাধ্য হয়ে আশপাশের ঝোপঝাড়, ড্রেন বা খোলা জায়গায় প্রাকৃতিক কাজ সারছেন। এতে করে কাউন্টার সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনই ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

কাউন্টারে বসে থাকা সালমা বেগম নামে এক নারী যাত্রী জানান, “ঢাকা যাওয়ার জন্য কাউন্টারে এসে দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি।

হঠাৎ বাচ্চার টয়লেটের চাপ দেওয়ায় বিপাকে পড়ে যাই। আশপাশে কোনো পাবলিক টয়লেট নেই, কাউন্টারেও ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে পাশের একটি হোটেলে গিয়ে অনুরোধ করতে হয়েছে। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

কাউন্টারের আশপাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা জানিয়েছেন, শৌচাগার না থাকায় অনেকেই তাদের দোকানের পেছনে বা দেয়ালে মলমূত্র ত্যাগ করেন। এতে করে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে থাকে এবং ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কোচ কাউন্টারের কয়েকজন বুকিং সহকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “জায়গার অভাব এবং মালিকপক্ষের উদাসীনতার কারণে শৌচাগার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

অনেক সময় যাত্রীরা আমাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন, কিন্তু আমাদের কিছু করার থাকে না। প্রতিটি কাউন্টারের নিজস্ব বা সম্মিলিত একটা টয়লেট ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন তারা।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পরিবহন মালিকদের শুধু লভ্যাংশ গোনার দিকে নজর দিলে চলবে না, যাত্রী সেবার মানোন্নয়নেও নজর দিতে হবে।

অবিলম্বে এই ৩০টিরও বেশি কোচ কাউন্টারের জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট স্থাপন অথবা কাউন্টার মালিকদের উদ্যোগে শৌচাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন পীরগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ।

IMG 20260618 101445 750 x 430 pixel

এছাড়াও যানজট নিরসনে ফুটপাতে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা দোকান ও কাউন্টার গুলো অ্যন্যত্র সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

এবিষয়ে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং (রাজ: ৮৮) এর পীরগঞ্জ স্ট্যান্ড কমিটির সভাপতি এবং পীরগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম জানান, “টিকিট কাউন্টারে শৌচাগার না থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

যাত্রীদের এই জরুরি সমস্যাটির গুরুত্ব আমরা উপলব্ধি করছি। এদিকে তীব্র যানজটের বিষয়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন দ্রুত এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেন। প্রয়োজনে কাউন্টার মালিকদের বাধ্য করা হোক যেন তারা যৌথভাবে একটি স্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করেন।”

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর