‘গোমূত্র’ নিয়ে তোলপাড় ভারতের লোকসভা

লোকসভায় বাদল অধিবেশনের উত্তাপ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিল বিজেপি-কংগ্রেসের মধ্যকার নতুন সংঘাত। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে কেন্দ্রের গঠিত নতুন টাস্কফোর্স নিয়ে সংসদ উত্তাল হয়ে উঠল দুই দলের বাকযুদ্ধে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা অধ্যাপক ভি কামাকোটি। সম্প্রতি পাবলিক একজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে লোকসভায় বক্তব্য রাখার সময় কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের প্যানেলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, নিত্যনতুন কমিটি গঠন না করে সরকারের উচিত নিজেদের উপদেষ্টাদের পরিবর্তন করা। প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, আগের রাধাকৃষ্ণন কমিটির কোনো সুপারিশই আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে নবগঠিত এই কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মন্তব্য করেন, এই কমিটিতে একজন প্রাক্তন আইবি প্রধান এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার মালিকের পাশাপাশি একজন গোমূত্র বিশেষজ্ঞও স্থান পেয়েছেন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরাসরি নাম না বললেও, তাঁর এই কটাক্ষ আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। অধ্যাপক কামাকোটি গোমূত্রের ভেষজ ও ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে এর আগেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করে চর্চায় এসেছিলেন।
প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যের পরই লোকসভায় গর্জে ওঠেন বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। তিনি প্রিয়াঙ্কার এই বক্তব্যকে দেশের একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদের চরম অপমান বলে আখ্যা দেন। অনুরাগ ঠাকুর কটাক্ষ করে বলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন প্রিয়াঙ্কা হয়তো তার ভাই রাহুল গান্ধীর চেয়ে আলাদা হবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনের চিন্তাভাবনা একই জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, আরএসএস-এর সাথে যুক্ত হওয়া কোনো অপরাধ নয় এবং প্রিয়াঙ্কারও আরএসএস থেকে জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ শেখা উচিত। এমনকি প্রিয়াঙ্কার মস্তিষ্ক সঠিক সচলতা হারিয়েছে কি না এমন বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের হয়তো গোমূত্র সেবন করা উচিত।



















