ঘানার সবচেয়ে দীর্ঘকায় ব্যক্তি ‘আউচে’মারা গেছেন

আপডেট: July 29, 2026 |
fd 182
print news

ঘানার সবচেয়ে দীর্ঘকায় মানুষ স্থানীয়ভাবে যিনি ‘আউচে’ নামে পরিচিত, সেই সুলেমানা আব্দুল সামেদ মারা গেছেন।

৩৩ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় ব্যক্তির প্রয়াণে দেশটির উত্তরাঞ্চলজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিবিসি লিখেছে, সোমবার সকালে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তামালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পায়ে হওয়া ক্ষত মারাত্মকভাবে সংক্রামিত হওয়ায় নিজ গ্রাম গাম্বাগা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে তামাল টিচিং হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল।

হাউসা ভাষায় ‘আউচে’ শব্দের অর্থ `চল যাওয়া যাক’। বয়স ২০-এর কোঠায় পৌঁছানোর পর সামেদের দেহে ‘গিগান্টিজম’ বা ‘অতি-দৈত্যাকৃতির’ উপসর্গ ধরা পড়ে।

২০২২ সালের শেষের দিকে বিবিসি তার উচ্চতা মেপে ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি (২২৩ সেন্টিমিটার) পেয়েছিল। তবে মৃত্যুর আগে তার উচ্চতা আরও বেড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি ‘মারফান সিন্ড্রোম’ নামক একটি বিরল জিনগত ব্যাধিতেও ভুগছিলেন, যা শরীরের সংযোগকারী টিস্যু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ করে দেয়।

আউচের আত্মীয় সুলেমানা আব্দুল কুদুস বিবিসিকে বলেন, “তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও উদার মনের মানুষ ছিলেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে অসংখ্য মানুষ আমাদের বাড়িতে আসছেন।”

তিনি জানান, পায়ে হওয়া ক্ষতগুলো সরাসরি মারফান সিন্ড্রোমের জন্য না হলেও আউচের শারীরিক জটিলতার কারণেই সৃষ্টি হয়েছিল।

হাসপাতালে চিকিৎসায় তিনি সাড়াও দিচ্ছিলেন, তবে সোমবার সকালে আকস্মিকভাবেই তার মৃত্যু হয়।

সুলেমানা জন্মগতভাবে অস্বাভাবিক লম্বা ছিলেন না। ২২ বছর বয়সে ঘানার রাজধানী আক্রায় কসাইয়ের দোকানে কাজ করার সময় প্রথম তার দেহে পরিবর্তন দেখা দেয়।

প্রথমে মুখগহ্বরে জিহ্বা বৃদ্ধি পেয়ে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় আর পরবর্তীতে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ দ্রুত বাড়তে থাকে।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারলাম মুখের ভেতরে আমার জিহ্বা এতটা বড় হয়ে গেছে যে আমি ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছিলাম না।”

অস্বাভাবিক উচ্চতার কারণেই নয় বছর আগে পেশাদার চালক হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়ে গ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি।

একসময় সাধারণ তরুণদের মতো ফুটবল খেলতেন ও অ্যাথলেট ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, শারীরিক জটিলতায় শেষদিকে তিনি সামান্য দূরত্বও হাঁটতে পারতেন না।

তবে এত কষ্টের পরও নিজের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ইতিবাচকভাবে উপভোগ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ছোট গ্রাম গাম্বাগা পুরো দেশে আলাদা পরিচিতি পেয়েছিল।

দীর্ঘদিন চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খাওয়া আউচের সহযোগিতায় সম্প্রতি এগিয়ে এসেছিলেন ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামার ভাই ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মাহামা। তিনি তামাল টিচিং হাসপাতালে আউচের সমস্ত চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন।

এদিকে গাম্বাগার বাসিন্দারা তার আকস্মিক প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত।

তবে গাম্বাগা গ্রামে সমাহিত করা হলে সেখানে শোকসন্তপ্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে বিবেচনা করে পরিবার তাকে তামাল শহরেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সূএ : বিবিসি

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর