আমিই ‘প্রথম’ আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ করি: কলিমুল্লাহ

জুলাই আন্দোলনের এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেছেন, তিনি জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। আবু সাঈদ হত্যার পর তিনিই ‘প্রথম’ প্রতিবাদ করেন।
বৃহস্পতিবার শুনানি নিয়ে তাকে মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন এ আদেশের কথা জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনকে আসামি করে গত বছরের ১৮ জুন মামলা করেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম।
ওই মামলায় ৭ অগাস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ১৪ জুন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। পরবর্তীতে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমার সাপেক্ষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির। অন্য কোনো মামলা না থাকায় তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।
এরই মাঝে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. আবু সাঈদ মঙ্গলবার তাকে মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখে বৃহস্পতিবার।
এদিন শুনানিকালে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
কলিমুল্লাহর পক্ষে তার আইনজীবী আব্দুর রশীদ তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর আর্জি জানান। তিনি দাবি করেন, দুর্নীতির মামলায় জামিনের অপেক্ষায় আছেন কলিমুল্লাহ। জামিননামা জেলখানায় পৌঁছানোর ৩০ ঘণ্টা পর জামিন আটকাতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন কলিমুল্লাহ।
তিনি বলেন, “সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে আমি কথা বলেছিলাম। এজন্য ক্ষমতা হারানোর দুই মাস আগে তিনি অভিযোগ (দুর্নীতি) করে যান। ৩০ বছর ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি, যা দেখেছি তাই তুলে ধরেছি।
“বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখনও পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি। যা দেখেছি, তাই তুলে ধরেছি।”
এসময় বিচারক বলেন, “নির্বাচনের আগের রাত থেকে তো অনিয়ম শুরু হয়। সবাই খবর পায়। আপনারা পাননি?”
জবাবে কলিমুল্লাহ বলেন, “নির্বাচনের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত আমার দায়িত্ব। এর আগে-পরে কিছু হয়েছে কি না, সেটা তো আমার জানার কথা না। ২০২৪ সালের নির্বাচনের অনিয়মের কথা তুলে ধরেছিলাম।
“একারণে আমিসহ কুমিল্লার এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবারে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। দেড় বছর সেই মামলার বিচার চলেছে। কিন্তু আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।”
জুলাই আন্দোলনের নিহত রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের প্রসঙ্গ টেনে কলিমুল্লাহ বলেন, “আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ প্রথম আমিই করি। সে আমার ছাত্র। আমি যে প্রথম প্রতিবাদ করি, তার রেকর্ড আছে।
“আমি জুলাইয়ের বিরোধিতা করিনি। আবু সাঈদ নিহতের পর প্রতিবাদ জানিয়ে জনমত গঠন করি।”
পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর শুনানিতে তার আইনজীবী মহসিন রেজা ও মহিমা বাঁধনও উপস্থিত ছিলেন।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে কলিমুল্লাহ বলেন, “আবু সাঈদ আমার ছাত্র। তাকে হত্যার প্রতিবাদ প্রথম আমি করি।”
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণি সড়কের উত্তর পাশে ২ নম্বর সড়কের মাথায় অবস্থান করেন ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির।
বিকাল পৌনে ৫টায় আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রসজ্জিত সজ্জিত হয়ে ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিতভাবে গুলি চালান। আসামিদের ছোড়া গুলি তার বাম হাতের কনুইয়ে লাগে৷ এতে তিনি গুরুতর জখম হন। উপস্থিত লোকজন তাকে উত্তরা হাই-কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন কেন্দ্রতে (নিটোর) ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯০ জনকে আসামি করা হয়।













