এবার সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে সিন্ডিকেটের টার্গেট ২০০ কোটি টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসিফ নজরুলের শত কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের ধারাবাহিকতায় সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আবারও রমযান-মাইকেল সিন্ডিকেটের নাম। গেল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আলোচিত ছিল সারাদেশে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তৎকালিন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময় এই বদলি বাণিজ্যের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা সাব-রেজিস্ট্রার রমযান খান ও খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ।
দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে সারা দেশে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলীতে ভুমিকা রাখায় তারা ব্যবহার করেন বিভিন্ন কৌশল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বদি বাণিজ্যের শীর্ষ নেতা বনে যান রমজান খান। স্থান বেধে বেশ কয়েক কোটি টাকা আগেই দিতে হতো তার হাতে, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সামনে নিয়ে আসেন ভু্য়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়ে চাকরি নেয়া মাইকেল মহিউদ্দিন খান। পর্দার অন্তরালে থাকা রমযান খান মাইকেল মহিউদ্দিনকে সামনে নিয়ে এসে গড়ে তুলেন সাব-রেজিস্ট্রার বদলির রাজত্ব। সাভারের সাব রেজিস্ট্রার থাকাকালীন সময়ে জাল দলিল রেজিস্টি করে শত শত কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগে ইতোমধ্যে মাইকেল মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান।
শুধু আসিফ নজরুলের সময় এক বদলিতেই তারা হাতিয়ে নেন কয়েকশত কোটি টাকা। যার ভাগ পেয়েছেন আসিফ নজরুল নিজেও।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদদের সদস্য সুলতান সালাহউদ্দিনের সরকারি পিএস হন সাভারের সাবেক বিতর্কিত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়ে প্রশাসন ক্যডারের ৩৫তম ব্যচের কর্মকর্তা আবু বকর।
এবার আবু বকরকে সামনে রেখে বদলি বাণিজ্যের সামনে আসেন সেই রমযান মাইকেল সিন্ডিকেট। যেখানে মুল লেনদেনের ভুমিকায় থাকেন মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। পূর্বের অঢেল অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলার অপরাধে যার বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রনাল ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
এই মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ ইতোমধ্যে শত শত জাল দলিল করে বিতর্কিত হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন বলেই সামনে নিয়ে এসেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী টুকুর পিএএস আবু বকরকে, যিনি লেনদেনের সব কাজ সামলাচ্ছেন।
আবু বকরকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সারা দেশের সাব-রেজিস্টারদের কাছ থেকে প্ররায় ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন রমযান মাইকেল সিন্ডিকেট।
২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট নিজেদের সম্পদ বিবরনি জমা দেয়ার বিরুদ্ধে সচিবালয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্যের জানান দেন। এর পরে নির্বাচন না দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আধিপত্য বিস্তার করা রমজান কমিটি সিনিয়র সহসভাপতি থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধা ভুগি চক্রের সদস্য নিজের এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাইকেল মহিউদ্দিনকে সামনে নিয়ে আসেন। কমিটির মেয়াদ পূরণের আগেই ১২ জানুয়ারি নতুন কমিটি ঘোষণা করেন তারা, যেখানে নামে মাত্র পুতুল সভাপতি করা হয় খন্দকার জামিলুর রহমানকে। যিনি চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আর সকল সাব রেজিস্ট্রারদের একক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নতুন করে বদলি বাণিজ্য শুরু করেন নিজেই মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়া মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। বিগত সরকারের সময় নানা বিতর্কে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে সংবাদের শিরোনাম হওয়া মাইকেল। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মাইকেল, ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গি, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের সব জায়গায়
পদায়নে টাকার বিনিময়ে পদায়ন দেন তারা।
বদলি সম্রাট রমযান-মাইকেলের সাথে যুক্ত হলেন আবু বকর।
সাব রেজিস্ট্রারদের ভাষায়, সেই পদায়ন নিতে অন্তত চার পাঁচ কোটি টাকা খরচ করতে হয়, যা অনায়াসেই লুফে নিয়েছেন রমযান- মাইকেল।
এরা দায়িত্ব পালনের সময় নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে নিয়মিত পত্রিকার শিরোনাম হলেও তাদের বাইরে গিয়ে বদলি হওয়ার নজির গত ১৯ বছরে কারও হয়নি।
বদলি বাণিজ্য করার পাশাপাশি সাব-রেজিস্ট্রার বদলির সকল শর্ত ভঙ্গ করে রমযান মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের সাব রেজিস্ট্রার থেকে একই জেলা রেজিস্ট্রার। জেলা সাব রেজিস্টা পদায়নের সময় বদলিতে সি গ্রেড অফিস পাওয়ার রেওয়াজ থাকলেও নিজেরবাগিয়ে নিয়েছেন এ গ্রেডের পোস্টিং মুন্সিগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার । আর মুন্সিগঞ্জ সদরের সাব রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা মাইকেল নিয়েছেন ঢাকার লোভনীয় খিলগাঁওয়ের সাব রেজিস্ট্রারের পদ ।
২০২৪ সালে সরকার পতনের পর দলীয় প্রভাব দেখানোর পাশাপাশি নিজেদের মত সাজিয়ে গড়েছেন সাব-রেজিস্ট্রাদের সংসগঠন চলছে বদলি বাণিজ্যের হিরিক, যেখানে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিআরএসএ) এর নেতৃত্বে আসেন রমযান-মাইকেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল বাতেন।
গুঞ্জন উঠেছে, এই সিন্ডিকেট সারাদেশ থেকে অন্তত ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে রেখেছেন সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর পিএস আবু বকরের কাছে। এই অর্থ রমজান মাইকেল আর আবুবকরের মধ্যে ভাগ হবে।
আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঢাকার গুলশানের গ্লোরিয়া জিন্স রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন নামিদামি হোটেলে বদলি বাণিজ্যের লেনদেন হলেও এবার কৌশল বদলে আবু বকরের ব্যবহৃত গাড়ি দিয়ে গুলশানের বিভিন্ন স্পট থেকে কালেকশন করে আড্ডা দিতে তারা একত্রিত হন গুলশান ১ নম্বরের চকোলেট রোম নামক রেস্তোরায়।
সম্প্রতি এই রমযান-মাইকেল-বকর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৩কোটি টাকা দিয়ে সাভার সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দায়িত্ব নেন। অভিযোগ আছে প্রথম দুই দিনেই জাল দলিল রেজিস্ট্রি করে পাভেল ৩ কোটি টাকার বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে পিএএস আবু বকরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোনে পাওয়া যায়নি।












