ফ্রি চিকিৎসাসেবায় মানুষের পাশে দারুল হিকমা ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেছে দারুল হিকমা ফাউন্ডেশন। অরাজনৈতিক ও সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে বুধবার আয়োজন করা হয় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। এতে মা ও শিশুদের চিকিৎসা, চর্মরোগের চিকিৎসা, বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়। বিশেষ করে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং চর্মরোগের চিকিৎসায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা নিতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ক্যাম্পে উপস্থিত হন।
তবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দারুল হিকমা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুধু স্বাস্থ্যসেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার সময় বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায়ও উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
সে সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা সংগ্রহ করে বন্যাদুর্গতদের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংগৃহীত অর্থ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এটি দারুল হিকমা ফাউন্ডেশনের প্রথম স্বাস্থ্যসেবামূলক উদ্যোগ নয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে আরও একটি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল।
সেখানে রোগীদের বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা ও রক্তচাপ মাপার ব্যবস্থা করা হয়। ধারাবাহিক এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আজকের ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আরাফাত, সাব্বির, সামির, ইব্রাহিম, ফজলে রাব্বি, সিয়াম, আইয়ুব, মাহাবুব, ইমন, দিহান, আশিক, সাফিন, ইমরান, আলভী, আজমির ও রিফাত। রোগীদের তথ্য সংগ্রহ, চিকিৎসকদের সহযোগিতা এবং ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তাঁরা দায়িত্ব পালন করেন।
দারুল হিকমা ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ মাওলানা মুফতি আকরাম হোসেন বলেন, “মাদ্রাসা-মসজিদের কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও কিছু করার ইচ্ছা থেকেই দারুল হিকমা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি।
এটি একটি অরাজনৈতিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের পাশে থাকতে চায়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে সামাজিক ও মানবিক কাজে অংশ নিক। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, তা কমিয়ে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের জন্য কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে চাই।”
আকরাম হোসেন আরও বলেন, “সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর বিষয়েও আমরা কাজ করতে চাই। তরুণদের সঙ্গে নিয়ে মানুষের সেবা এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে নিয়ে গিয়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
প্রতিষ্ঠানটি নতুন হলেও এরই মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগে সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এমন প্রত্যাশা দারুল হিকমা ফাউন্ডেশনের। মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণদের সামাজিক কাজে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চায় প্রতিষ্ঠানটি








