আদানি বিদ্যুৎ নিয়ে আমাদের সঙ্গে খেলা করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভারতের আদানি বিদ্যুৎ নিয়ে আমাদের সঙ্গে খেলা করছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একদিন ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও পরদিন তা কমিয়ে ৫০ মেগাওয়াট দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইন শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের কোনো গ্যাস কূপ খনন করে যায় নাই অতীতের সরকার। আমাদের যা রিজার্ভ ছিল তা এখনো চলে। আমরা নতুনভাবে কিছু গ্যাস কূপ খনন করতে শুরু করেছি, খুব ত্বরিত গতিতে। গ্যাস নাই, তারা গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে লুটপাট করেছে, সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ডিজেলচালিত, কয়লাচালিত ৯টা বিদুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। অতি উচ্চমূল্যে বিশাল আকারে একটা এলপিজির স্টক কেনা হয়েছে, বিদুৎ কেন্দ্রগুলো রান করার জন্য। আশা করি, এক সপ্তাহের মধ্যে ৯-১০টা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে ফেলব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। নতুন এই হাসপাতালগুলোতে নারীদের জন্য ২০টি এবং শিশুদের জন্য ২০টি সিট সংরক্ষিত থাকবে এবং ডায়ালাইসিসের জন্য ১০টি সিট রাখা হবে। স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে তিন বছরের মধ্যে এমবিবিএস ডাক্তার, নার্স সহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসংবলিত হেলথ সেন্টার করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, হাম প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চার বছর পরপর ক্যাম্পেইনিংয়ের নির্দেশনা থাকলেও বিগত সরকার কোনো টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেনি। সরকার পরিবর্তনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে টিকা সংগ্রহ করা হয় এবং গত ৪ এপ্রিল থেকে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চালু করেন। পরবর্তীতে সেগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি আরও বলেন, ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই দেশে প্রতি ১১ হাজার মানুষের জন্য একজন ডাক্তার রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আপনাদের নিয়ে একটি সুন্দর ও উন্নত দেশ গড়তে হবে, সেই বার্তাটিই আপনাদের দিতে এসেছি। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, নেশা ও ধর্ষণ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। সামাজিক সুবিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত সহ জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।












