নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার শাহজাহান ওমর

আপডেট: August 31, 2026 |
fd 245
print news

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন ঘিরে পৃথক দুই হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে। যিনি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন।

সোমবার বনানীর সোহাগ নামে এক কিশোরকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।

এছাড়া ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত মিরপুরে মো. মুক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় একই আদেশ দিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই জুয়েল সরকার গেল ২৪ অগাস্ট এবং মিরপুর থানার এসআই আজিজুল হক ২৫ অগাস্ট শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার।

এদিন শুনানির জন্য প্রথমে শাহজাহান ওমরকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নেওয়া হয়।

ওই আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন শাহজাহান ওমরকে কে দেখে ‘মীর জাফর’ বলে সম্বোধন করেন। ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলেও দুয়ো দেন কেউ কেউ।

ওই আদালতে হাজিরা দিতে আসা শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদল নেতা মহসিন শেখ বলেন, ”তার জনপ্রিয়তা ছিল বিএনপির জন্য। সুযোগ বুঝে বিএনপি থেকে সরে গেছে।”

“যুগে যুগে মীর জাফরদের অবস্থা এমনই হয়। তার কি এখন কাঠগড়ায় থাকার কথা ছিল। তার থাকার কথা ছিল সংসদে। মীর জাফরির কারণে আজ কারাগারে।”

পরে শুনানি নিয়ে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।

এরপর শাহজাহান ওমরকে নেওয়া হয় সেফাতুল্লাহর আদালতে। শুনানি নিয়ে আদালত তাকে ওই মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।

বিএনপি ছেড়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করেন এমপি হন শাহজাহান ওমর।

সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শাহজাহান ওমরকে। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

মুক্তার হোসেন হত্যাচেষ্টার মামলায় বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত মিরপুর-১০ নম্বরেএ সুইমিং পুল ও ফায়ার সার্ভিসের ভবনের সামনে রাস্তায় অবস্থান করেন মো. মুক্তার হোসেন।

“পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে আহত হন তিনি। এরপর মুক্তারকে এলোপাতারি মারধর করা হয়। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।”

চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে পড়ে তিনি মামলা দায়ের করেন।

আর সোহাগ হত্যাচেষ্টার মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বনানী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন সোহাগ।

“সেদিন দুপুর ২টার দিকে বুকে দুটি গুলি লাগে তার। সোহাগতে উদ্ধার করে মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। পরে তাকে শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক অপারেশন করে একটি গুলি বের করেন। অপর গুলিটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

“পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অপারেশন করে আরেকটি গুলি বের করা হয়। ২১ জুলাই সোহাগের বাসায় গিয়ে হামলা করা হয়।”

এ ঘটনায় সোহাগের বাবা বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর