হাইতিতে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে মৃত্যু বেড়ে ৭৫

হাইতির উত্তরাঞ্চলে ক্যাপ-হাইতিয়ান শহরে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫-এ দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সোমবার রাতের ওই বিস্ফোরণে আহতদের চিকিৎসায় হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

বিস্ফোরণের আগে জ্বালানিবাহী গাড়িটি উল্টে গিয়েছিল, তখন আশপাশের অনেকে সেটি থেকে জ্বালানি নিতে ছুটে যান; এ কারণে বিস্ফোরণটি আরও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকেই ৬১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়।

জাস্টিনিয়ান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসা বিষয়ক পরিচালক জঁ গ্রাসিয়া কক বলেন, যত ধরনের সহায়তা আছে, সব দরকার আমাদের। এত আহত সামলাতে হাসপাতাল অভ্যস্ত নয়।

সোমবার রাতের ওই বিস্ফোরণে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ির সামনের অংশ ও অনেকগুলো দোকানও পুড়েছে।

ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, ট্যাংকারটির চালক একটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেওয়া এড়ানোর চেষ্টা করলে জ্বালানিবাহী গাড়িটি উল্টে যায়।

আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকেই তখন ট্যাংকারটি থেকে জ্বালানি নিতে ছুটে যায়, কিছু সময়ের মধ্যেই ঘটে বিস্ফোরণ। চালক তাদের গাড়িটির কাছে যেন না যায় সে জন্য সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারা শোনেনি; তারা তাদের টেলিফোন নিয়ে গিয়েছিল, সেটিকে ফ্ল্যাশলাইট হিসেবে ব্যবহারও করেছে; কয়েকজন তো হাতুড়ি দিয়ে ট্যাংক ছিদ্র করারও চেষ্টা করেন।

তিনি জানান, আশপাশের অনেক বাড়িতে আগে থেকে মজুদ করা জ্বালানিও ছিল, ট্যাংকার বিস্ফোরণের পর সেগুলোতেও আগুন ধরে যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়িয়ে দেয়।

মঙ্গলবার হাইতির প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি ক্যাপ-হাইতিয়ান শহরের প্রধান হাসপাতালে বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে যান; তাদের চিকিৎসায় সরকারি সহায়তারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

বৈশাখী নিউজ/ জেপা