কারাগার থেকেই ভোটের খোঁজখবর রাখছেন খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম  খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।  খালেদা জিয়া কারাগারে থেকেও রীতিমত ভোটের খোঁজখবর রাখতে পারছেন । কারাবিধি অনুযায়ী তিনি বিটিভি ও একটি পত্রিকা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে করে তিনি সারাদেশের খোজ খবর কারাগারে থেকেও নিতে পারছে।

নিয়মিত নামাজ পড়ে আর বইপত্র পড়েই সময় কাটে তার। পত্রিকা-টিভি দেখার পাশপাশি ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতিমার সঙ্গে আলাপচারিতায় সময় কাটে বেগম জিয়ার। তবে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ভোট-সংশ্লিষ্ট নানা ‘বার্তা’ দিচ্ছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

কারারক্ষীদের সহায়তা নিয়ে ফাতেমা তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে বারান্দায় ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ান। ডিভিশন পাওয়া বন্দী হিসেবে কারাবিধি অনুযায়ী সব সুবিধাই তিনি পাচ্ছেন। পুরনো কারাগারের ভিতরই তার জন্য বিশেষভাবে রান্নার ব্যবস্থা আছে। কারারক্ষীরা তা তদারক করেন। মাছ, মাংস, ডাল, সবজি ও ভাত-রুটি রান্না করে তাকে দেওয়া হয়। বাইরে থেকে কোনো খাবারই সরবরাহ করার সুযোগ নেই। রান্না করা খাবার চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয়। তিন বেলাই এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তবে খাওয়া নিয়ে বেগম জিয়ার কোনো বিশেষ কোনো চাহিদাও নেই। হালকা লাউ-সবজি, রুটি, মুরগির মাংস বা অল্প ভাত খান বেগম জিয়া।

জানা যায়, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারটি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। ভোট সামনে রেখে আরও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক কারারক্ষী ছাড়াও বাইরে সব সময় চকবাজার থানা-পুলিশের একটি দল দায়িত্বে থাকে। এ ছাড়া প্রায় সব গোয়েন্দা সংস্থার লোকই পালা করে দায়িত্ব পালন করেন কারাফটকে।

উল্লেখ্য,  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই দিনই নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। এর মধ্যে ৬ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। এক মাস চিকিৎসা শেষে ৮ নভেম্বর তাকে ফের কারাগারে নেওয়া হয়।