ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়ির বাঁধে মাছ ধরা উৎসব

আপডেট: October 19, 2025 |
inbound9147550833959133046
print news

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়ির বাঁধে চলছে মাছ ধরা উৎসব। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও গতকাল রাতে বাধের পানি ছেড়ে দেয়ায় আজ ভোর থেকে জেলেরাসহ শত শত উৎসুক জনতা মাছ শিকারে নামেন। তবে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে মাছ না পেয়ে হতাশ জেলেসহ সবাই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শনিবার (১৮ অক্টোবর) জেলা সদরের বুড়ির বাঁধ এলাকায় ভোর থেকে মাছ ধরা উৎসবে মিলিত হন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত মৎস্য শিকারীরা।

স্থানীয় জেলেরা ছাড়াও উৎসুক জনতা ফিকা জাল, টানা জাল, খেলই, খেয়া জালসহ সব ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয় সবাই।

তবে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্খিত মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরেছেন সবাই।

স্থানীয় জেলেসহ মাছ শিকার করতে আসা মানুষেরা অভিযোগ করে বলেন, একবছর পর বিলের পানি ছেড়ে দিলেও তেমন মাছ পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র অব্যবস্থাপনার কারনে।

মাছ তো একবছর আগেই ধরে রাখা পানিতে ছেড়েছিল মৎস্য বিভাগ। মাছ ছাড়ার পর দেখভাল না করার কারনে রিংজাল বসিয়ে মাছ ধরে ফেলেছে। সেন কারনেই পানি ছেড়ে দিলেও মাছ পাওয়া যায়নি।

তা না হলে দেশিয় প্রজাতির ব্যাপক মাছ পাওয়া যেতো। এখন কয়েক বছর ধরে এই জলাশয়ে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১৯৫১-৫২ সালের দিকে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমির সেচ সুবিধার জন্য সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সীমানায় শুক নদীতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

বুড়ির বাঁধে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়ে। আর এই সময়টাতে বাধের পানি ছেড়ে দিলে মাছ উৎসবে মাতেন সবাই।

এ উপলক্ষে বাধের আশপাশে মন্ডা মিঠাইয়ের দোকান প্রসরা সাজিয়ে বসায় বাড়তি উৎসবের সৃস্টি হয়।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম জানান, জলাশয়ে মাছ ছাড়ার পর থেকে কিছু অসাধু ব্যাক্তি রিংজাল দিয়ে মাধ ধরার চেস্টা করে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে জাল উদ্ধার করে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবে শুধু প্রশাসসনিক তৎপরতা নয় স্থানীয়দেরকেও ভুমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই মাছ ধরা উৎসবের সফলতা মিলবে।

Share Now