শিগগিরই ফিরবেন আমাদের নেতা তারেক রহমান: মির্জা ফখরুল

আপডেট: December 11, 2025 |
inbound6686275190313610902
print news

তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে বিএনপি ফের জানাল যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরছেন। তবে তার দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার সকালে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় বলেন, “আজকে যেহেতু বাংলাদেশের সব এখানে উপস্থিত আছেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত আছেন; আমি আপনাদেরকে জানাতে চাই, আমাদের নেতা খুব শিগগিরই আমাদের মাঝে আসবেন’’

“আমাদের নেতা যেদিন আমাদের কাছে আসবেন, যেদিন বাংলাদেশে পা দেবেন; সেদিন যেন সমগ্র বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। এই কথাটা আপনাদের মনে রাখতে হবে…পারবেন তো। ইনশাআল্লাহ—সেইদিন আমরা গোটা বাংলাদেশের চেহারাকে বদলে দিতে চাই।”

এদিনই সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে।

দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে দলীয় নেতারা গত কয়েক মাস ধরেই ‘নভেম্বরে ফেরা’ প্রসঙ্গ তুলছিলেন। এর মাঝেই গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

তবে গত ২৯ নভেম্বর তারেক রহমান ফেইসবুকে জানান যে দেশে ফেরা তার একক নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয় নয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়—তার দেশে ফেরায় সরকারের কোনো আপত্তি নেই।

কর্মশালায় মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা সামনের দিকে এগুোতে চাই, প্রগতির দিকে এগতে চাই। বাংলাদেশের একটা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য আমাদের নেতার যে চিন্তাভাবনা, তাকে বাস্তবায়িত করার জন্য আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “এখন সংগ্রাম হচ্ছে—এই নির্বাচনে জয় লাভের সংগ্রাম। অনেক বাধা আসবে, অনেক প্রচারণা হবে। কিন্তু বিএনপি কোনোদিনই পরাজিত হয়নি, পরাজিত হবে না।”

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের দল, গণতন্ত্রের সংগ্রামের দল। আপনাদের মধ্যে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য থাকতে হবে।”

১৯৭১ নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৯৭১ সাল আমাদের অস্তিত্ব; এ কথাটা মনে রাখতে হবে। কোন সাহসে তারা বলে—১৯৭১ সালের প্রজন্ম নাকি নিকৃষ্টতম প্রজন্ম? কোন ঔদ্ধত্যে?”

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং অন্ধকার থেকে কালো থাবা বেরিয়ে আসছে কি না, তা সতর্ক হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নতুন লড়াই হলো—একদিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করানো, আরেকদিকে অপশক্তিকে রুখে দেওয়া।”

রবিবার থেকে শুরু হওয়া কর্মশালায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “আজকের আলোচনাগুলো শুধু শুনলেই হবে না; এগুলো জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের জীবন সংগ্রাম; জাতিকেও সংগ্রাম করে এগোতে হয়। আমাদের জনগণ বারবার প্রাণ দিয়েছে। এইবারের ছেলেরা যে প্রাণ দিয়েছে চব্বিশের জুলাই যুদ্ধে এবং তার আগে একাত্তরের যুদ্ধে—দুটিকেই এক করে আমরা এই লড়াইয়ে জয়লাভ করতে চাই।”

এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় সবার দোয়া চান।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোয়েল।

Share Now