ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো ভবন পরিদর্শনে আইজিপি

আপডেট: December 19, 2025 |
inbound4556927444672986454
print news

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্ববায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে কারওয়ান বাজারে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের পর সেখানে পরিদর্শনে করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এই দুই ভবন পরিদর্শন করেন।

তেজগাঁও বিভাগের (শিল্পাঞ্চল) অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, “আইজিপি মহোদয় সকালে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবন পরিদর্শন করেন।”

এ সময় তিনি বাহারুল আলম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি জানতে চান।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর বৃহস্পতিার রাতে। এরপর প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা অগ্নিসংযোগের পর উন্মুত্ত জনতার একাংশ যখন ডেইলি স্টার ভবনের দিকে অগ্রসর হয়, তখন বাইরে থেকে একজন ফোনে তাদের সেই খবর দেন।

খবর পেয়ে ডেইলি স্টারের বার্তা কক্ষে থাকা কর্মীরা নেমে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে ভবনের নিচে ‘মব’ এসে ভাঙচুর শুরু করে এবং এক পর্যায়ে আগুন দেয়।

ওই অবস্থায় ধোঁয়ার মধ্যে নিচে নামার চেষ্টা বাদ দিয়ে সংবাদকর্মীদের একটি অংশ উঠে যান দশ তলার ছাদে।

ডেইলি স্টারের সাংবাদিক বলেন, সব মিলিয়ে তারা মোট ২৮ জন ছিলেন। ভীষণ উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন সবাই।

কিছুক্ষণ পর ভবনের ক্যান্টিন বয় সাহস করে ছাদ থেকে ভবনের বাইরের ফায়ার এক্সিটের মই বেয়ে নেমে যান। কিন্তু নামার পর তিনি মবের কবলে পড়েন এং মারধরের শিকার হন। ওই ঘটনা দেখে অন্যরা আর কেউ মই বেয়ে নামার সাহস করেননি।

এক পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস এসে নিচতলার আগুন নেভায় এবং চারজন ফায়ারম্যান ছাদে উঠে আসেন আটকা পড়া কর্মীদের নামিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু নিচে উন্মুত্ত জনতার ভাঙচুর চলতে থাকায় কেউ নামার সাহস পাচ্ছিলেন না। তারা ছাদের দরজা বন্ধ করে দেন।

ফায়ার সর্ভিসের কর্মীরা সাহস দিয়ে বলছিলেন, নিচে সেনাবাহিনী আছে, ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হামাকারীদের কয়েকজন ছাদে উঠে এসে দরজায় ধাক্কা দেওয়া শুরু করলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন ছাদে থাকা ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মীও ভড়কে যান।

আটকা পড়া সংবাদকর্মীরা ছাদে থাকা টব জড়ো করে দরজা আটকে রাখার চেষ্টা করেন। তাদের সময় কাটতে থাকে আতঙ্কের মধ্যে।

এক পর্যায়ে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি, নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর এবং আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ডেইলি স্টার ভবনের নিচে এসে হামলাকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে নূরুল কবীর উল্টো হেনস্তার শিকার হন।

পরে ভবনের নিচে থাকা সেনা সদস্যরা কৌশল করে এক পাশের সিঁড়ি ছেড়ে দেন। হামলাকারীরা তখন ওই পাশ দিয়ে উপরে উঠে ভাঙচুর-লুটপাট শুরু করে।

এই ফাঁকে ছাদে এবং ভবনে আটকা পড়া ডেইলি স্টার কর্মীদের ফায়ার এক্সিটের সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে এনে পেছন দিক দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। ততক্ষণে ভোর পৌনে ৪টা বেজে গেছে।

ডেইলি স্টারের ওই সাংবাদিক বলেন, “কপাল ভালো, আজ বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। জানি না দেশ কোন দিকে যাচ্ছে।”

পত্রিকাটির সিনিয়র রিপোর্টার জাইমা ইসলাম এক ফেইসবুক পোস্টে বলেন, “আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। অনেক ধোঁয়া। আমি ভেতরে। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছো।”

ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয় ছাড়াও উত্তরার এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে রাতে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

Share Now