বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছিল। তা যেন কিছুটা আগেভাগেই ফলে গেল। ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি। ২০২৬ সালে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে- এমন একটা ধারণা ছিল। সেই পূর্বাভাস যে বছরের প্রথম মাসেই সত্য হয়ে যাবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে বিশ্বব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছেন, তাতে বছরের শুরুতেই সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বলা বাহুল্য, ইতিহাসে এই প্রথম সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন বাড়তে থাকায় আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগও জোরালো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে খবরে জানানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিও বাজারে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। গত শনিবার তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যচুক্তি করে, তাহলে দেশটির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে দেখেন। ফলে যা হওয়ার তা–ই হচ্ছে। গত শুক্রবার এই প্রথম রুপার দাম আউন্সপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত বছর রুপার দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরেও রূপার দাম বাড়ছে।
অন্যান্য বেশ কয়েকটি কারণেও মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা বেড়েছে। এর মধ্যে আছে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মূল্যস্ফীতি, দুর্বল মার্কিন ডলার, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনা ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ এ বছর আবারও সুদের হার কমাতে পারে— এমন প্রত্যাশা।
ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নিয়ে আসা— এসব কারণেও সোনার দাম বেড়েছে।
বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এযাবৎকাল মোট প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ২৬৫ টন সোনা উত্তোলন করা হয়েছে।
এই পরিমাণ সোনা দিয়ে তিন থেকে চারটি অলিম্পিক আকারের সুইমিংপুল ভরানো সম্ভব। এর বড় অংশই ১৯৫০ সালের পর উত্তোলন করা হয়েছে। ওই সময় খননপ্রযুক্তির উন্নতি ঘটে এবং নতুন সোনার ভান্ডার আবিষ্কৃত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে) বলছে, ভূগর্ভস্থ মজুত থেকে আরও প্রায় ৬৪ হাজার টন সোনা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী কয়েক বছরে সোনার সরবরাহের গতি স্থিতিশীল হয়ে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যেভাবে অনিশ্চয়তার খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সোনার দাম আরও বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।













