রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট: February 5, 2026 |
inbound4992682824817187514
print news

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: নানা অভিযোগ ও অসৌজন্যমূলক আচরণে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সচেতন মহল ও অসহায় ছিন্নমূল মানুষ।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করে বলেন, নুরুন্নবী সরকার বেশ কয়েকমাস আগে এই উপজেলায় রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে যোগদান করেন।

যোগদানের পর থেকেই তিনি কারো সাথে সৌজন্য মুলক আচরণ করেন নি। অফিসে আগত সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অফিস কক্ষে বসেই ধূমপান করেন।

বক্তাদের আরও অভিযোগ, শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি কম্বল বিতরণ না করে তিনি স্বচ্ছল ও নিজের মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছেন।

এমনকি নিজের সরকারি কোয়ার্টারের শয়নকক্ষে কম্বল মজুদ রেখে পছন্দের লোকজনকে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেক ছিন্নমূল মানুষ জানান, শীতবস্ত্র পাওয়ার আশায় একাধিকবার পিআইও’র কার্যালয়ে গিয়েও তারা কোনো সহায়তা পাননি। বাধ্য হয়েই তারা মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রানীশংকৈল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মোহনা টিভির প্রতিনিধি সাংবাদিক ফারুক আহম্মেদ।

তিনি বলেন, “পিআইও নুরুন্নবী নিজেকে ‘হেডম’ দাবি করে সাধারণ মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। অফিসে বসে ধূমপান করা সরকারি আইন লঙ্ঘনের শামিল। আমরা তার দ্রুত প্রত্যাহার দাবি করছি।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন , এই পিআইও ইউএনওকেও তোয়াক্কা করেন না। ইউএনওর কোনো নির্দেশ বা সুপারিশ তিনি মানেন না। কথায় কথায় বলেন—এমপি, মন্ত্রী কিংবা ইউএনও কাউকেই তিনি মানেন না।

সাধারণ মানুষ অফিসে গেলে পিআইও নুরুন্নবী গালিগালাজ করেন। এমন অসভ্য কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে আরো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।

মানববন্ধনে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে পিআইও নুরুন্নবীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বলেন, আমি জেলায় অবস্থান করছিলাম। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর