সরকারকেই নিতে হবে আলোচনার উদ্যোগ : ককরোচ জনতা পার্টি

দুই মাস আগে যাত্রা শুরু করা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।
এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, কে আগে নতিস্বীকার করবে?
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী নেতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “সরকার যদি কথা বলতে চায়, তবে তাদের এখানেই আসতে হবে এবং আমাদের শর্ত মেনেই আলোচনা করতে হবে। আমরা সরকারকে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার অনুরোধ করছি। সরকারের এই অহংকার এবার থামানো উচিত।”
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের এই বক্তব্যটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা চালান। ভারতের চিকিৎসা শাস্ত্রের স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নিট একমাত্র প্রবেশিকা পরীক্ষা, যাতে প্রতি বছর লাখ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার দায় আন্দোলনকারীদের ওপরই চাপানো হচ্ছে। সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, “আন্দোলনকারীরা যদি কথা বলতে আসে, তবে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।”
তবে ককরোচ জনতা পার্টি তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে, সরকারকেই তাদের কাছে আসতে হবে।
ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “সরকারের সঙ্গে আলোচনা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে কিংবা যন্তর মন্তরে হতে পারে। তবে আমরা আমাদের দাবি থেকে একচুলও পেছাব না। আমাদের মূল দাবিই হলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।”
এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক দুপুর ১২টার দিকে নির্ধারিত ছিল।
তবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) অভিজিৎ দীপকে সরকারের আলোচনার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একদিকে তাদের সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার নাটক করছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় দীপকে অভিযোগ করেন, “সরকার কেবল আমাদের সময় নষ্ট করেছে। তারা আমাদের প্রতিনিধি দলকে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোন জব্দ করে রাখে। আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে একপ্রকার জেপি নাড্ডার বাসভবনে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।” উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ আজ ৩২তম দিনে গড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “সরকারের পুরো পরিকল্পনাটাই ছিল আমাদের টিমকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া, যাতে চারপাশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে কেউ নেতৃত্ব দেওয়ার মতো না থাকে। সে কারণেই তারা তাদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে আমাদের সময় নষ্ট করেছে। আপনারা একদিকে আলোচনার জন্য ডাকছেন, আর অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি চার্জ করছেন।”
তবে আন্দোলনকারীদের এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার, হাজার হাজার আন্দোলনকারী পার্লামেন্টের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তা আটকে দেয়। পরবর্তীতে জেপি নাড্ডা সংগঠনের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং আশ্বাস দেন যে, আন্দোলনকারীদের দাবি নিয়ে সরকারের শীর্ষপর্যায়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা করা হবে।
সংঘাতের ঘটনার পরদিনও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। জানা গেছে, আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্টের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর লঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে বলপ্রয়োগ করে। এই সহিংসতার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।













