অ্যাম্বুলেন্সেই সন্তানের জন্ম দিলেন নারী হাজতি, কারা কর্তৃপক্ষের শুভেচ্ছা

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক নারী হাজতি অ্যাম্বুলেন্সেই একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে যশোরের চূড়ামনকাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ আছেন।
কারা সূত্র জানায়, হাজতি বৃষ্টি খাতুনকে (১৯) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। পথিমধ্যে রাত আটটা চল্লিশ মিনিটের দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি যশোরের চূড়ামনকাটি এলাকায় পৌঁছালে তার প্রসববেদনা তীব্র আকার ধারণ করে এবং পথেই তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
বিষয়টি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ জানার সঙ্গে সঙ্গে তারা বৃষ্টি খাতুন ও নবজাত শিশুটিকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যশোর
আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে মা ও শিশুকে শনিবার বেলা ১২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর মা ও শিশুকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান জেলার আবিদ আহমেদ। মা ও নবজাতকের জন্য নতুন জামাকপড়, মশারি, বিছানাপত্র, তোয়ালে, ন্যাপকিন, ডায়পার, অলিভ ওয়েলসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু কারাগারের পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া হয়। উপস্থিত সবাইকে করানো হয় মিষ্টিমুখ। কারাগারের কঠোর নিয়ম, শৃঙ্খলার পরিবেশের মধ্যে এমন মানবিক আচরণের প্রশংসা করছেন অনেকেই।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন। তারা পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঝিনাইদহ কারাগারে পাঠানো হবে।
জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, কারাগারের দেয়াল হয়তো মানুষের জীবনের একটি বিশেষ বাস্তবতার প্রতীক, কিন্তু মানবতা, মমতা ও ভালোবাসার কোনো দেয়াল নেই। এই ছোট্ট অতিথির আগমন সেই মানবিকতার কথাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, একটি নতুন প্রাণের আগমন মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনার সূচনা। সদ্যোজাত শিশুটি সুন্দর, সুস্থ ও আলোকিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।







