ভিন্নধর্মী নাটক ‘গৃহবন্দী’তে অভিনেত্রী ঊর্মি আহমেদ

সমাজের স্পর্শকাতর ও বাস্তবধর্মী একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘গৃহবন্দী’। শরীফ থেকে শরীফা হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে নির্মিত এই নাটকে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী ঊর্মি আহমেদ। নাটকটি মুক্তি পেয়েছে স্বপ্ন কানন মাল্টিমিডিয়ার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।
নাটকটির গল্পে উঠে এসেছে জন্মগত পরিচয় ও লিঙ্গপরিচয়ের প্রশ্নে একজন মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং সেই পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের সামাজিক ও মানসিক টানাপোড়েন। পরিবারের একজন সদস্যের এমন সিদ্ধান্তকে সমাজ কীভাবে গ্রহণ করে, কিংবা প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে একটি পরিবার কী ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়—সেসব বিষয়ই তুলে ধরা হয়েছে ‘গৃহবন্দী’ নাটকে।
নাটকটিতে ‘রুবি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঊর্মি আহমেদ। চরিত্রটি ধারণ করতে গিয়ে নিজের অভিনয় প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
ঊর্মি আহমেদ বলেন, “নাটকটির বিষয়বস্তু এক কথায় প্রকাশ করা যাবে না। আমি রুবি চরিত্রটিকে ধারণ করার চেষ্টা করেছি। নাটকটির জন্য আমরা পুরো টিম দুই দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। পরিচালকও আমাদের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন।”
চরিত্রটির বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে পরিচালকের বিশেষ নির্দেশনার কথাও জানান তিনি।
ঊর্মি বলেন, “আমি যখন মেকআপ নিচ্ছিলাম, তখন পরিচালক মেকআপ রুমে এসে বলেন, রুবি চরিত্রে কোনো মেকআপ চাই না। এটি একটি ‘র’ ক্যারেক্টার, একদম মেকআপ ছাড়া দেখতে চাই। আমি শুধু একটি জায়গায় হালকা লিপস্টিক ও টিপ পরেছিলাম, সেটি ছিল প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার দৃশ্যে।”
অভিনয় জীবন নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ঊর্মি আহমেদ বলেন, “আমি মিডিয়ায় এসে কখনো নায়িকা হতে চাইনি। সব সময় একজন ভালো অভিনেত্রী হতে চেয়েছি।”
দর্শকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “বাংলা নাটক বেশি বেশি দেখুন। আপনাদের উৎসাহে আরও ভালো ভালো নাটক নির্মিত হবে।”
নাটকটির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মাহফুজ ইসলাম। প্রযোজনা করেছেন ইসমাইল হোসেন। এটি স্বপ্ন কানন মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশনের একটি নির্মাণ। চিত্রগ্রহণে ছিলেন জয় আকাশ।
‘গৃহবন্দী’ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন কেএস রবিন, মাহবুব আল রশিদ খান, কাকা মাসুদ, আকলিমা লিজা, মো. তোফাজ্জল হোসেন, মারিয়া খান, আঁখি আক্তার, মোঘলে আজম, মোহন সরকার, মো. সতেজ চৌধুরীসহ অনেকে।
নাটকটির প্রযোজক ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমরা চাই দর্শক নাটকটি দেখুক এবং ভাবুক। একটি পরিবারের ভেতরের কষ্টটা বুঝুক। ‘গৃহবন্দী’ সবাইকে ভাবতে বাধ্য করবে।”
পরিচালক মাহফুজ ইসলাম বলেন, “‘গৃহবন্দী’র মূল গল্প হলো একজন শরীফের শরীফা হয়ে ওঠার গল্প। এটি আমাদের সমাজেরই গল্প। একটি পরিবার যখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তখন তাদের সম্মান, ভালোবাসা ও সামাজিক অবস্থান কীভাবে গৃহবন্দী হয়ে পড়ে, আমরা সেটাই তুলে ধরেছি। দর্শক এখান থেকে সমাজের বাস্তব শিক্ষাটা নিতে পারবেন।”







