ইরানের মোজতবা খামেনির সঙ্গে বিচারপ্রধানের বিরল বৈঠক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে বিরল এক বৈঠক করেছেন দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই।
নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার সঙ্গে বৈঠকের সময় ও স্থানও প্রকাশ করা হয়নি।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগের অনলাইন সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন জানিয়েছে, বৈঠকে জনসাধারণের অধিকার সুরক্ষা, দুর্নীতি দমন এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।
এছাড়া ‘আমেরিকান-জায়নবাদী অপরাধীদের অপরাধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও নৈতিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং অধিকার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া’ নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে বৈঠকটি কবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য জানায়নি বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যমটি। এর আগে মোজতবা খামেনির সঙ্গে অন্য ব্যক্তিদের বৈঠকের খবর প্রকাশিত হলেও সেসব বৈঠকের সময় ও স্থানও জানানো হয়নি।
জনসমক্ষে অনুপস্থিত মোজতবা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি মূলত লিখিত বার্তার মাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করছেন। এসব বার্তার কয়েকটি তার হাতের লেখা বলে দাবি করে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার কোনও ভিডিওবার্তা প্রকাশ করা হয়নি। জনসমক্ষে তার অনুপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিচার বিভাগের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের খবর প্রকাশের মধ্য দিয়ে মোজতবার সঙ্গে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের যোগাযোগের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এল। তবে বৈঠকটি সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, কিংবা এর কোনও ছবি বা ভিডিও রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠকের খবর
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে মোজতবা খামেনির বৈঠকের খবর প্রকাশিত হয়। ওই বৈঠকে যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
বিচার বিভাগের প্রধান এবং প্রধান আলোচকের সঙ্গে এসব বৈঠকের খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইরান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিংবা যুদ্ধ পরিচালনা ও আলোচনার বিষয়ে কোনও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জনসমক্ষে অনুপস্থিতি এবং তার কার্যক্রম সম্পর্কে সীমিত তথ্যের কারণে দেশটির নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোর খবর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: ডন নিউজ








