সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ঠেকাবে দুদক

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবেলায় হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দ চাল বিতরণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব চাল আত্মসাত ও কালোবাজারে বিক্রির সময় তা উদ্ধার করেছে প্রশাসন।

তবে এখন থেকে এসব দুর্নীতি ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সূত্র জানায়, এরইমধ্যে দুদকের সব বিভাগীয় কার্যালয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়কে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক যে কোনো কর্মসূচিতে দুর্নীতির মতো অপরাধ রোধে কাজ করবে কমিশন।

সূত্র আরো জানায়, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ছাড়াও দুদকের  প্রত্যেক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো অবস্থাতেই সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে দুর্নীতির ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হবে না। এতে জড়িতদের সময়মতো আইনের আওতায় আনা হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণের চাল চুরির ঘটনায় এরইমধ্যে অর্ধশত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তাদের অনেকে পলাতকও রয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। ৩০ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ চাল চুরির ঘটনাগুলো ঘটে।

রংপুর নগরের পশ্চিম খাসবাগ এলাকায় গতকাল শুক্রবার টিসিবির ১৮ বস্তা চিনি, ১০৬ কার্টন সয়াবিন তেল, এক বস্তা ডালসহ তুহিন ট্রেডার্সের মালিক ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, উদ্ধার করা মালামাল টিসিবির ডিলার আজমল হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের। তাঁরা পলাতক। আটককৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অন্যদিকে রংপুরের পীরগঞ্জে গত বুধবার রাতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৯০ বস্তা চাল আটকের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সাতজনকে আসামি করে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ। উপজেলার গুর্জিপাড়া কলেজের সামনে ওই চালের ট্রলি আটক করে ভেণ্ডাবাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। এ সময় ট্রলিচালক, হেলপার ও শ্রমিককে আটক করা হয়।

বালিয়াডাঙ্গীর বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পারুয়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার সকালে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের ৬০৮ বস্তা সরকারি চালসহ এক নসিমনচালককে আটক করে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল আলম সুমন পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালের বস্তাগুলো থানায় নিয়ে যান। পরে এর সূত্র ধরে বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য কুলসুমা আক্তারের স্বামী আমিরুল ইসলামের কুশলডাঙ্গী গ্রামের মেসার্স ভাই ভাই হাস্কিং মিলে তল্লাশি চালিয়ে আরো চাল জব্দ করেন ইউএনও। এ সময় ওই এলাকায় তাঁর তিনটি চালের গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়।

নরসিংদীর রায়পুরার মরজাল ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ বস্তা চাল হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রির দায়ে মো. মিস্টার মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও তাঁর ডিলারশিপ বাতিল করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে চালের বস্তাগুলো উদ্ধার করা যায়নি। দণ্ডিত মিস্টার মরজালের বাসিন্দা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও মো. শফিকুল ইসলাম।

বগুড়ার সোনাতলায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর গ্রেপ্তার হওয়া মিঠু মণ্ডল উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে এবং সদর উপজেলায় গতকাল ভোরে ৩০ বস্তা করে ৬০ বস্তা চাল (তিন টন) জব্দ করা হয়। মেলান্দহে ওই চাল ক্রেতা স্থানীয় মো. আসাদুল ও রফিক পলাতক। সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের চিকারপার গ্রামের রাস্তায় তিনটি ইজি বাইকে করে আটা-ময়দা, পোল্ট্রি খাদ্য ও পশুখাদ্যের পলি বস্তায় ভরা ৩০ বস্তা চাল পাচারের সময় গ্রামবাসী আটক করে। খবর পেয়ে সদরের ইউএনও ফরিদা ইয়াছমিন ঘটনাস্থল থেকে চালের বস্তাগুলো জব্দ করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবেলায় হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দ দেওয়া ৬০৮ বস্তার বেশি চাল কালোবাজার থেকে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের ১০ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির দায়ে এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও তাঁর ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। বগুড়ার সোনাতলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ও ভিজিডির ৫০ বস্তা চাল কালোবাজারে কেনার অভিযোগে এক কৃষক লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জামালপুরের দুই উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৬০ বস্তা চাল জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুদক কঠোর ভূমিকায় থাকবে বলে জানা গেছে।

বৈশাখী নিউজবিসি