ভেনিজুয়েলায় জরুরি সহায়তা প্রয়োজন, হাসপাতালে পানির সঙ্কট

ভেনিজুয়েলার স্বাস্থ্যখাত করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেনি। সে কারণে দেশটির বিভিন্ন জায়গা থেকে করোনাভাইরাস আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পাবলিক হেলথ।

তাদের আশঙ্কা, ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের জন্য মানবিক সহায়তা না পাঠানো গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেবে। ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা পাঠাতে হবে বলেও মত দিয়েছে তারা।

ভেনিজুয়েলায় এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এক হাজার একশ ৭৭ জন এবং মারা গেছে ১০ জন। তবে আক্রান্ত ও মৃতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমিত হারে পরীক্ষা করার কারণে সংখ্যাটা এতো কম দেখাচ্ছে। চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাংবাদিকরাও বারবার সে কথা বলছেন।

এর মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিকরা ফিরে আসছেন। তাদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে না ভেনিজুয়েলা সরকার। ফলে তাদের দ্বারাও সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে।

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুলের ওষুধ বিভাগের প্রফেসর ক্যাথলিন পেজ বলেন, সে দেশে সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন। গুরুতর রোগীরা সেখানে চিকিৎসা পাচ্ছে না। ফলে করোনা আক্রান্ত না হলেও বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ভেনিজুয়েলার স্বাস্থ্যখাতে বিপর্যয় ঘটেছে। সেখানে চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবাকর্মীদের স্বল্পতা রয়েছে।  আর সে দেশ এমনিতেই স্বাস্থ্যখাতে পিছিয়ে থাকার তালিকায় রয়েছে।

চিকিৎসক ও নার্সরা বলেছেন, ভেনিজুয়েলার হাসপাতালগুলোতে সাবান ও জীবাণুনাশক প্রায় নেই বললেই চলে। সেখানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অন্যান্য ব্যবস্থার কথা চিন্তা করা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার কর্মী জোসি মিগুয়েল ভিভানকো বলেন, করোনা ঠেকাতে অন্যান্য দেশের উচিত ভেনিজুয়েলাকে সহায়তা করা। দেশটিতে যেন মানবিক সহায়তা দ্রুত দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে সহায়তা করা প্রয়োজন।

জানা গেছে, সে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে পানির ব্যাপক সঙ্কট রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা করা দরকার। এজন্য জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।

সূত্র : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

বৈশাখী নিউজজেপা