তাসকিনের দুর্দান্ত ক্যাচ, কিউইদের ৩ উইকেটের পতন

নিজে উইকেট নেওয়ার পর এবার মার্টিন গাপটিলকে (২১) দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফেরালেন তাসকিন আহমেদ। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে নিউজিল্যান্ড ওপেনার লেগ সাইডে ফ্লিক করলেও সেখান থেকে এক হাতে ক্যাচ ধরেন তাসকিন।

পরের ওভারে শরিফুল ইসলামের প্রথম বলে তুলে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ মিঠুনের ক্যাচে বিদায় নেন পুরো সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানো ডেভন কনওয়ে (১৫)।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।

নেপিয়ারে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে আগে বোলিং করেছিল বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে শুরু থেকে মারমুখী খেলতে থাকেন দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও ফিন অ্যালেন। নাসুম আহমেদের করা প্রথম ওভারে দুই চারের মারে নিয়ে নেন ৯ রান, সাইফউদ্দিনের করা পরের ওভারে আসে আরও ৭ রান। নিজের দ্বিতীয় ওভারে প্রথম বলে বাউন্ডারি হজম করেও ৪ রানের বেশি দেননি নাসুম।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিং পরিবর্তন করেন মাহমুদউল্লাহ। সাইফউদ্দিনের জায়গায় আনা হয় তাসকিন আহমেদকে। তার প্রথম বলেই ডিপ মিডউইকেট দিয়ে বিশাল ছক্কা মারেন অ্যালেন। ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেননি তাসকিন। সুযোগ তৈরি করেন পরের বলেই।

অতি আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টায় মিড অফ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন অ্যালেন। বলের নিচে গিয়েও সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। সেই ওভারের চতুর্থ বলে লংঅন দিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ছক্কা মারেন গাপটিল। তবু দমে যাননি তাসকিন, আপোস করেননি গতি ও বাউন্সের সঙ্গে।

এর ফলও পান হাতেনাতে। তার ওভারের শেষ বলটিতেও ছক্কার জন্য বড় শট নেন অ্যালেন। কিন্তু টাইমিংয়ের গড়বড়ে সেটি উঠে যায় আকাশে। স্কয়ার লেগ থেকে অধিনায়কের করা ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেননি নাঈম শেখ। তার নিরাপদ হাতে বিদায়ঘণ্টা বাজে ১০ বলে ১৭ রান করা অ্যালেনের।

পরের ওভারে নাসুমকেও আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ, বল তুলে দেন আরেক তরুণ শরিফুল ইসলামের হাতে। দারুণ গতি ও বাউন্সের সঙ্গে দুর্দান্ত এক ওভার করেন শরিফুল। তবে কোনো বাউন্ডারি না পেলেও সেই ওভার থেকে ৭ রান তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।

নিজের প্রথম ওভারে উইকেট পেলেও তাসকিনকে টানা দুই ওভার করাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ষষ্ঠ ওভারে ফের আক্রমণে আনেন সাইফউদ্দিনকে। প্রথম পাঁচ বলে জোড়া চার হজম করে ১২ রান দিয়ে বসেন সাইফউদ্দিন। কিন্তু শেষ বলে তাসকিনের দুর্দান্ত ক্যাচে ওভারটি শেষ হয় ভালোভাবে।

সাইফউদ্দিনের পায়ের ওপর করা ডেলিভারিটি জোরের সঙ্গে খেলেছিলেন গাপটিল। ব্যাটের ভেতরের দিকে লেগে বল চলে যায় ফাইন লেগে। সেখান থেকে বাম দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতেই বলটি তালুবন্দী করেন তাসকিন, সাজঘরে ফিরতে হয় ১৮ বলে ২১ রান করা গাপটিলকে।

প্রথম পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট নেয়া বাংলাদেশ, স্বাগতিকদের ওপর আরও চাপ বাড়ায় ঠিক পরের বলেই। শরিফুলের করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের প্রথম বলে অনসাইডে বড় শটের চেষ্টা করেন আগের ম্যাচের নায়ক ডেভন কনওয়ে। কিন্তু টপ এজ হয়ে বল চলে যায় সোজা স্কয়ার লেগে থাকা মিঠুনের হাতে। এ ম্যাচে ১৫ রানের বেশি করা হয়নি কনওয়ের।

বৈশাখী নিউজজেপা