ফরিদপুর মেডিকেলে ডাক্তার ও রোগীর স্বজনের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২১

আপডেট: September 6, 2023 |
inbound8811254432320445415
print news

তারেকুজ্জামান, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করছে তার স্বজনরা।

এটিকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষে এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ ২১ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের কমলাপুর এলাকায় বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা নয়ন খানকে (৯৫) অসুস্থাবস্থায় সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেয়া হয়।

হাসপাতালের দোতালায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাকে।

নয়ন খানের নাতি আলমগীর বিশ্বাস বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে নানার শ্বাসকষ্ট হলে নার্সদের জানাই। তারা ইমার্জেন্সি চিকিৎসককে জানাতে বলেন।

এরপর ইমার্জেন্সিতে কর্তব্যরত চিকিৎসককে রোগীকে ওয়ার্ডে গিয়ে একটু দেখার জন্য এবং পরে ন্যুনতম অক্সিজেন দেয়ার অনুরোধ জানাই।

কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থাই নেননি। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি আমার নানার মৃত্যুর হয়েছে। এ সময় ডাক্তারদের সাথে আমাদের কথাকাটাকাটি হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমার মা আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে একটি বাথরুমে আটকে রাখেন। এরপর ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো এসে বাথরুম থেকে বের করে আমার ওপর হামলা চালায়।’

মৃত ব্যক্তি নয়ন খানের বাড়ি হাসপাতালের কাছে হওয়ায় তাদের আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্টাফদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ ২১ জন আহত হন।

আহতরা হলেন- হাসপাতালের স্টাফ ও চট্টগ্রাম সদরের ভোলানাথের ছেলে অর্ণব (২৬), এবং ইন্টার্ন ডাক্তাররা হলেন, মাহমুদুল(২৬), শামিম(২৪), রোকন (২৪), শিহাব (২৪), এজাজ (২৬), মহিন (২৬), শাকিব (২৬), পাভেল (২৬), ইসতেফার (২৪), জাহিদ (২৬), সাব্বির(২৬), ফরহাদ (২৬)। তারা সকলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রাবাসে থাকেন। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহতরা স্বজনরা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতি আলমগীর বিশ্বাস (২৮), তৌহিদ বিশ্বাস (২৫), আলিফ খান (১৪) ও হামজা খান (১২), মেয়ে জেসমিন (৪২), সাবিনা ইয়াসমিন (৫০) ও রেবেকা সুলতানা মনি (৩৫) ও স্ত্রী হালিমা।

আহতদের মধ্যে চারজনকে পুলিশ হেফাজতে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। আহতরা আশঙ্কা মুক্ত।

মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনদের থানায় আনা হয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা স্বাভাবিক আছে। চিকিৎসকরা সকালে সভায় বসেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এনামুল হক বলেন, প্রতিদিনই কমবেশি ঝামেলা হয়।

আমি হাসপাতালের বাইরে আছি। ছুটিতে আছি। তবে মারামারির কথা জানতে পেরেছি। বিস্তারিত জেনে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

এ ঘটনা তদন্তে ফরিদপুরের এডিএম অমিত দেবনাথকে প্রধান করে তিন সদস্য-বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Share Now