জুস খাইয়ে ফখরুলকে অনশন ভাঙালেন অলি

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে গণ-অনশন করেছে বিএনপি। শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে গণ-অনশন শুরু হয়। চলে বেলা ২টা পর্যন্ত।
বিএনপির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ফলের রস খেয়ে গণ-অনশন ভাঙান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।
স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান।
গণ-অনশনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, যে নেত্রী গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আজীবন ত্যাগ স্বীকার করে আসছেন তিনি আজ বন্দী। আজকে এ অনশনে সকল রাজনৈতিক দল স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন এবং শপথ করেছেন এ সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবে না।
তিনি বলেন, এরা সরকার নয়। এরা শাসক। এরা ভয়ানক দল। এরা ঘোষণা দেন বিএনপি আমাদের শত্রু। একটি রাজনৈতিক দল একথা বলতে পারে না। আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল হতে পারে না। এরা কমান্ডো কায়দায় আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, গোটা বিশ্ব এদেরকে সরে যেতে বলছে। এদের অত্যাচার অবিচারের দেশবাসী আজ অতিষ্ঠ। এরা কাউকে পাত্তা দেয় না। এরা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়।
তিনি বলেন, আজকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্রের মুক্তি অবিচ্ছেদ্য অংশ। খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। তাই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। আজকে দেশকে বাঁচাতে হলে, অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তাই পূজায় আমরা কোনো কঠিন কর্মসূচি রাখিনি। সরকার নিজেরা পূজা মণ্ডপে হামলা চালিয়ে আমাদের ওপর দায় চাপাবে। এগুলো তাদের অতীত ইতিহাস। তারপরও গতকাল তারা হিন্দু খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভায় হামলা চালিয়েছে।

এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য কেনো চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা চাওয়া হচ্ছে। আজকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক রাখা হচ্ছে। কারণ বেগম জিয়া বাইরে থাকলে এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এমন কোনো কাজ নেই যে আমরা করি নাই। আবেদন করেছি, সমাবেশ করেছি, আন্দোলন করেছি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হত্যা করার জন্য। তাকে ভুয়া মামলায় আটক করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শেখ হাসিনা কখনও খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করতে দিবে না। তাকে আটক করা হয়েছে হত্যা করার জন্য। রাজপথে যদি আঘাত আসে, তা প্রতিরোধ করতে না পারি, তাহলে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, একজন মানুষ অসুস্থ হলে তার সুচিকিৎসার অধিকার রয়েছে। কিন্তু দেশনেত্রীকে এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এবারের লড়াই বেচে থাকার লড়াই, সবার লড়াই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, সারাদেশ আজ ঐক্যবদ্ধ। এ সরকারের বিদায় করার জন্য দেশবাসী প্রস্তুত। এখন প্রয়োজন শুধু নির্দেশ।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে খালেদা জিয়াকে বাঁচানো যাবে না, দেশ বাঁচানো যাবে না। দেশকে বাঁচাতে হলে এ সরকারকে বিদায় করতে হবে।
বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সমমনা দলগুলোর নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং এই গণ-অনশনে সংহতি প্রকাশ করে একাত্মতা ঘোষণা করেন মোস্তফা জামাল হায়দার, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খন্দকার লুৎফর রহমান, কাদের গনি চৌধুরী, যুব জাগপার সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।


