প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

আপডেট: November 13, 2023 |
inbound4190515892518076050
print news

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর ঘিরে খুলনায় সাজসাজ রব। সোমবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলাসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

এদিন বিকেলে তিনি খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত খুলনা বিভাগীয় জনসভায় যোগ দেবেন।

সেখানে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও পাঁচটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

নগর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে মিছিল সহকারে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসছে। অনেকেই বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে জড়ো হচ্ছেন।

সাদা, হলুদ, লাল রঙের টিশার্ট ও টুপি পড়ে বাহারী সাজে সেজেছেন। অনেকেই লাল সবুজের পতাকার রঙে পোশাক পরে নৌকা মাথায় ও হাতে নিয়ে সমাবেশকে সফল করতে এসেছেন।

৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা ঘিরে খুলনা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে নৌকা ও পদ্মা সেতুর আদলে প্রস্তুত করা হয়েছে জনসভার মঞ্চ।

জনসভায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা আওয়ামী লীগের নেতাদের। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে পুরো নগরী নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে দুপুর পৌনে ১টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন।

এরপর দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সার্কিট হাউজে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন তিনি। বেলা পৌনে ৩টায় সার্কিট হাউজ মাঠে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এরপর যোগ দেবেন আওয়ামী লীগ আয়োজিত খুলনা বিভাগীয় জনসভায়। নৌকা ও পদ্মা সেতুর আদলে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা মঞ্চ।

সার্কিট হাউস ময়দানের আবাহনী ক্রীড়াচক্র প্রান্তে তৈরি করা হয়েছে নিচে নৌকা ও ওপরে পদ্মা সেতুর আদলে ৯০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৪০ ফুট প্রস্থ ও সাড়ে ১৩ ফুট উঁচু সুবিশাল মঞ্চ। যেখানে অন্তত ৪০০ জন অতিথি বসতে পারবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে নগরীতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। তোরণ, পোস্টার, প্লাকার্ড, বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে নগরী।

ইতোমধ্যে সার্কিট হাউজ মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে নৌকা ও পদ্মা সেতুর আদলে বিশালাকৃতির মঞ্চ। রাতে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে টিভি স্ক্রিন। এসব টিভি স্ক্রিনে মহাসমাবেশ সরাসরি সম্প্রচার হবে।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সার্কিট হাউসের জনসভার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করার সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণের অপেক্ষায় রয়েছে খুলনাবাসী।

বঙ্গবন্ধু কন্যার আগমন উপলক্ষে ১০ জোড়া স্পেশাল ট্রেন ও দুটি ঘাটে নতুন করে ৬টি ফেরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, এসব ট্রেন নওয়াপাড়া, যশোর, বেনাপোল, চুয়াডাঙ্গা, কোটচাঁদপুর, আলমডাঙ্গা, মোবারকগঞ্জ ও কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে খুলনায় আসবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন জানান, জনসভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলা এবং গোপালগঞ্জ ও পিরোজপুরের ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এবারের জনসভা হবে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসভা। জনসভাস্থলের আশপাশের সব সড়কে মাইক দেয়া হয়েছে, যাতে সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর নেতাকর্মীরা রাস্তার দাঁড়িয়ে প্রিয় নেত্রীর ভাষণ শুনতে পারেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর