বরগুনায় ব্যস্ত সময় পার করছে শুটকি পল্লী শ্রমিকেরা, সরকারি ভাবে বিদেশে বিক্রির দাবি

বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার জেলার তালতলী, পাথরঘাটা, বরগুনা সদর সহ বিভিন্ন চরে শতাধিক শুঁটকিপল্লী গড়ে উঠেছে । শীত আসলেই শুরু হয় এই শুটকি পল্লীতে কাজ।
বর্তমানে শুটকি পল্লীর শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছে। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর নদীর মোহনায় দেশি মাছের শুঁটকিপল্লী বলে পরিচিত তালতলীর আশার চর ও পাথরঘাটার পদ্মার চর উল্লেখযোগ্য ।
এ শুঁটকিপল্লীতে জেলেদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এ পল্লীতে এখন সারি সারি ভাবে শুকানো হচ্ছে নানা জাতের মাছ।
এ পল্লী থেকে খাবার উপযোগী হয়ে শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে দেশর বিভিন্ন বাজারে ও বিদেশে। তবে জেলেদের দাবি সরকারিভাবে শুঁটকি রপ্তানি হলে ভালো লাভবান হওয়া যেতো ।
জেলেরা সিনিয়র সাংবাদিক তালুকদার মোঃ মাস্উদ কে বলেন , আশারচর, সোনাকাটা, ফকিরহাট,জয়ালভাঙ্গা, পদ্মার চরে অগ্রহায়ণ – চৈত্র পাঁচ মাস ব্যস্ত থাকে শুঁটকিপল্লীর ক্রেতা, বিক্রেতা ও শ্রমিকরা।
এই এলাকায় প্রায় শতাধিক শুঁটকি পল্লীতে১০/ ১২ হাজার নারী-পুরুষ কাজ করছে । এখানের প্রতিটি শুঁটকিপল্লী হতে প্রতি সপ্তাহে ১০০ টন মাছ রপ্তানি হচ্ছে।
নদী থেকে কাঁচা মাছ শুঁটকিপল্লীতে নিয়ে আসার পর নারী শ্রমিকেরা তা পরিষ্কার করে,মাঠের রোদে শুকনা দেয়।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে , প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি তৈরি করা হয় এখানে। এর মধ্যে রূপচাঁদা, সুরমা, লইট্টা, ছাড়াও চিংড়ি, ছুড়ি, ভোল, মেদ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
বর্তমানে প্রতি কেজি ছুরি মাছের শুঁটকি ৭’শ থেকে ৮’শ টাকা, রূপচান্দা এক হাজার, লইট্যা ৬০০ থেকে এক হাজার,চিংড়ি ৭’শ থেকে ৮’শ টাকা এবং অন্যান্য ছোট মাছের শুঁটকি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া এখানকার শুঁটকিপল্লির মাছের গুঁড়ি সারা দেশে প্লোট্রি ফার্ম ও ফিশ ফিডের জন্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
শুঁটকিপল্লীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলে ও মালিক পক্ষ মিলে শতাধিক মানুষ কাজ করছেন। সেখানে প্রায় ১১০টি ছোট ছোট ঘর তৈরি করা হয়েছে।
পল্লীতে কেউ মাছ মাচায় রাখছেন, কেউ মাচায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন, কেউবা শুকনো মাছ কুড়িয়ে জমা করছেন। কেউবা বস্তা ভর্তি করছে শুটকি মাছ।

















