বগুড়ায় বৈদ্যুতিক মিটার চুরি চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

শাহজাহান আলী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার নন্দীগ্রামে আবাদি মাঠে গভীর নলকুপের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি চক্রের মূলহোতা আক্কাস আলী(২৫) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
আবাদি মাঠে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে একটি মোবাইল নম্বর লিখে চিরকুট ফেলে আসে সংঘবদ্ধ চক্র। যোগাযোগ করলে মিটার ফেরত দেয়ার শর্তে টাকা চাওয়া হয়।
বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পরপরই মিটার কোথায় আছে বলে দেয় তাঁরা।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে মিটার চুরি হওয়ার ৭ ঘন্টার মধ্যে চিরকুট লিখে মিটার চোর চক্রের মূলহোতা আক্কাস আলী (২৫)কে মিটার গ্রেফতার করেছে চুরির পুলিশ।
এ সময় তার কাছে থেকে কথা বলা এবং অর্থিক লেনদেন করা মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আক্কাস আলী বগুড়ার কাহালু উপজেলার মৃত আজিম উদ্দিন শেখের ছেলে।
গত শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাতে মিটার চুরি হওয়ার ৭ ঘন্টার ব্যবধানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিটার চুরি চক্রের মূলহোতা আক্কাস আলীকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে চুরির বিষয়টি স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১৩ জানুয়ারি (শনিবার) নন্দীগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জিয়া জানান,আক্কাস আলী তাঁর সহযোগীদের নিয়ে বগুড়া সদরসহ কাহালু, নন্দীগ্রাম, শাহজাহানপুর এবং নাটোর জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার ফসলি জমিতে সেচ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে আশপাশে লুকিয়ে রাখে।
এরপর তাঁরা একটি মোবাইল নম্বর লিখে ঘটনাস্থলে একটি চিরকুট ফেলে যায়। ভূক্তভোগীরা ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের সদস্য জানায়, তাঁদের চাহিদা মতো টাকা না পাঠালে চুরি করা মিটার তাঁরা ভেঙে ফেলবে।
যতবার মিটার লাগাবে, ততবারই তাঁরা চুরি করবে। কেউ বাঁধা দিলে প্রয়োজনে লাশ ফেলবে বলেও হুমকি দেয়।
ভূক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে ওই চক্রের দেওয়া নম্বরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পরপরই চুরি যাওয়া মিটার কোথায় আছে তাঁরা বলে দেয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চামটা মৌজার পুনাইল পূর্বমাঠে অবস্থিত ঘর সংলগ্ন বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ইউপি সদস্য ইব্রাহিম আলী মন্ডলের গভীর নলকূপের মিটার ও ইউসুফ আলী কাজীর মিটার চুরির ঘটনা ঘটে।
সংঘবদ্ধ চক্র নলকূপের দরজার সঙ্গে মোবাইল নম্বর লেখা চিরকুট রেখে যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগের পর নগদের মাধ্যমে ৭ (সাত) )হাজার টাকা পাঠানোর পর চুরি যাওয়া বৈদ্যুতিক মিটার সরিষা ক্ষেতে লুকানো আছে বলে জানায় চক্রের সদস্য।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী সরিষা ক্ষেতে খোঁজ সেখানে দুটি মিটার পাওয়া যায়। ‘আপনার মিটার চুরি হয়েছে, মিটার পেতে কল করুন’- এমন বার্তাসহ চিরকুট ফেলে যাওয়ার ঘটনা নন্দীগ্রাম উপজেলায় বেশ আলোচিত।















