পাকিস্তানজুড়ে পিটিআইয়ের বিক্ষোভ চলছে

আপডেট: February 17, 2024 |
boishakhinews24.net 81
print news

পাকিস্তানে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। তাদের এই বিক্ষোভে অংশ নেবে জামায়াত-ই-ইসলামি (জেআই)। শুক্রবার পিটিআই-এর এক প্রতিনিধি দল জেআই নেতাদের সঙ্গে দেখা করার পর এই ঘোষণা এসেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলী খান।

জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সুর নরম করেছেন। পাশাপাশি পিপিপি ও পার্টির বিচ্ছিন্ন অংশের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিটিআই।

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পিটিআই-এর এক প্রতিনিধি দল জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, এই বৈঠকে ভোট ডাকাতির অভিযোগে দুই দলই একসঙ্গে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ শনিবার দেশজুড়ে পিটিআই-এর বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও থাকবে জামায়াত।

এদিন জামায়াত নেতাদের সঙ্গে দেখা করা পিটিআই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার আসাদ কায়সার। বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে দুই দলের একটাই অ্যাজেন্ডা। আর তা হলো—‘ভোট ডাকাতির’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা।

কায়সারের দাবি -গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে মাত্রার কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, তা নজিরবিহীন। এ অবস্থায় যে দলগুলো এই কারচুপির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে তাদের সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

পিটিআই নেতা বলেন, ‘এই কারচুপির বিরুদ্ধে যারা আওয়াজ তুলেছে আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা একসঙ্গে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাববো। সিদ্ধান্ত বন্ধ ঘরে হবে না। দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে এবং আমরা আইনি লড়াইও করব।’

এ সময় শনিবারের দেশব্যাপী বিক্ষোভে জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান আসাদ কায়সার। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, কথিত কারচুপির বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ইমরানের দলের একাধিক সূত্র জিও নিউজকে জানিয়েছে, ইমরান খান বর্তমানে আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন। তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত। যদিও পিপিপি এরইমধ্যে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী শাহবাজ শরিফকে সমর্থন দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে পিটিআই নেতা ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আলী সাইফ সরকার গঠনের জন্য পিপিপির সঙ্গে যোগাযোগের খবর অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পিপিপি ও পিএমএল-এনের সঙ্গে আলোচনা না করার জন্য পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ‘কঠোরভাবে’ নির্দেশ দিয়েছেন।

পিপিপির সঙ্গে সরকার গঠনের প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা বিরোধী দলের সাথে বসতে বলেছেন কিন্তু পিপিপি ও পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট গঠন না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নানা নাটকীয়তা ও সহিংসতার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ভোটে এককভাবে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন ইমরান খানের দল পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্ররা।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর