নারীর নিরাপত্তায় রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণবিধি থাকা উচিৎ: জাইমা রহমান

আপডেট: February 8, 2026 |
inbound651369192332561914
print news

‘রাজনীতিতে যেসব নারী সক্রিয়, নিজ অঙ্গনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি আচরণবিধি থাকা উচিত’ এমন কথা বলেছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিস মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন জাইমা রহমান।

‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আয়োজন করে উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইন্ড)।

জাইমা রহমান তার ভাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘সেফটির দিক থেকে যদি কোনো নারী নেত্রী বা স্টুডেন্ট লিডারের কিছু হয়, তাহলে দলগুলো লিগ্যাল কোড অব কনডাক্টের মাধ্যমে নারীকে প্রটেক্ট করবে। অর্থাৎ যদি নারীর কিছু হয়, দল দায়িত্বটা নেবে যে আমরা উনাকে প্রটেক্ট করব, উনার পাশে থাকব।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবস্থান করে নেওয়াটা পুরুষের জন্য সহজ হলেও নারীদের জন্য কঠিন। সেই কারণেই নারীদের এগিয়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলোর বড় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, নারীদেরকে উঠে আসার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতে হবে। সব দলকে এই দায়িত্বটা নিতে হবে।

জাইমা রহমান আরো বলেন, ‘একদম ছায়ার মতো, তালগাছের ছায়ার মতো যদি কেউ না থাকে মেন্টর, তাহলে ওই ছোট গাছটা কীভাবে আবার বড় হবে?’

রাজনীতিতে নারীদের উঠে আসার ক্ষেত্রে তাঁদেরকে অর্থনৈতিকভাবেও সহায়তার ওপরও জোর দেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, ‘তাঁদেরকে সুযোগ দেওয়া উচিত দাঁড়ানোর জন্য। যাঁর মেধা আছে দাঁড়ানোর জন্য কোনো একটা সংসদীয় আসন বা স্থানীয় সরকারে।’

সহায়তার পাশাপাশি নারীনেত্রীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন জাইমা রহমান।

‘উইমেন ইন ডেমোক্রেসি’র এই গোলটেবিলে অংশ নিয়ে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারীদের নেতৃত্বের জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানোর প্রবণতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

ফারাহ কবির বলেন, ‘এত দিন বিভিন্ন জায়গায় নারীরা নেতৃত্বে ছিলেন, কিন্তু গত ১৮ মাসে নতুন করে মনে হয়েছে, এসব নারী কি এখন সবাই ফিরে যাবে? এভাবে ডিভাইড অ্যান্ড রুলের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

তাই দেশের মানুষকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাঁরা কী ধরনের নেতৃত্ব চায়, বলেন ফারাহ কবির।

গোলটেবিলে অংশ নিয়ে আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটে বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কীভাবে এই প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে, তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি।

সারা হোসেন বলেন, সম্প্রতি অনেক নারী বক্তব্য দিয়েছেন, তারা পুরুষের অধীন থাকতে চান। পুরুষ তাদের পরিচালক, এটা তারা মেনে নিয়েছেন। ওই নারীদের এই বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত । তাহলে এসব বক্তব্য আর আলোচনায় আসবে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, গণ–অভ্যুত্থানে যেসব নারী এগিয়ে এসেছিলেন, পাঁচ আগস্টের পর তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এখন নারীদের বিভিন্নভাবে প্রশ্নের মুখোমুখি করছে।

নারীদের বিরুদ্ধে যে সাইবার বুলিং হয়, তার বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা বন্ধে সবাইকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান উমামা ফাতেমা।

টিভি উপস্থাপক কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাসলিমা আখতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, সাংবাদিক জায়মা ইসলাম, ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি প্রমুখ।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর