সোমবার বগুড়া সিটি কর্পোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: April 19, 2026 |
inbound1564363369379590450
print news

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেড়শ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি কর্পোরেশন উদ্বোধন করবেন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসেনের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮২১ সালে বগুড়াকে জেলা ঘোষণার পর জেলা শহর উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য ১৮৬৯ সালে বগুড়া টাউন কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক ডব্লিউ ওয়াভেল। এ কমিটি সাত বছর চলার পর ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে বগুড়া মিউনিসিপালটি গঠিত হয়। তখন বগুড়া পৌরসভার আয়তন ছিল ১ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার এবং প্রথম প্রশাসক ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক জো হোয়াইটম্যান। দীর্ঘদিন পর ১৯৮১ সালের ১ আগস্ট বগুড়া মিউনিসিপালটির আয়তন বৃদ্ধি করে ১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার এবং ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করে ওয়ার্ড সংখ্যা ৯ থেকে বাড়িয়ে ১২টি করে তৎকালীন সরকার।

পৌরসভা গঠনের প্রায় দেড়শ বছর পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১১টি পৌরসভা বিভিন্ন সরকারের আমলে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু তারপরও অবহেলিত বগুড়া। দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভা বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করা হয়নি। আয়তন, জনসংখ্যা, নিজস্ব রাজস্ব আয়সহ সব যোগ্যতা থাকার পরেও সিটি কর্পোরেশন না হওয়ায় সরকারের সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ, ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে পৌরসভার চার পাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে বগুড়া পৌরসভার আয়তন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সে সময় ১২টি ওয়ার্ড থেকে ২১টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয় বগুড়া পৌরসভা। পৌরসভাকে বৃহৎ আকার দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল সে সময়। কিন্তু সরকারের নানা জটিলতার কারণে বগুড়া পৌরসভা আর সিটি কর্পোরেশন হয়নি। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে বার বার সিটি কর্পোরেশনের দাবি জানানো হলেও তাও বাস্তবায়ন হয়নি। গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার রংপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করেছে। কিন্তু বগুড়া দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভা হলেও তা পৌরসভাই রয়ে গেছে। অথচ সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণের শর্ত অনেক আগেই পূরণ করেছে বগুড়া। শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন হয়নি বলে নাগরিক সমাজের অভিমত। পরে অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসলে বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হোসনা আফরোজা বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন করার প্রস্তাব দেন।

এরপর এক চিঠিতে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার জন্য গণবিজ্ঞাপ্তি জারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে গত বছরের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন এসে জানান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করা হবে। কিন্তু পরে আর সেটিও হয়নি।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণাসহ আটটি উন্নয়ন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রোববার প্রাক-নিকার (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি) সচিব কমিটির সভা হয়। সেখানে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন উন্নীতকরণের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় এসে সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপারে জানাবেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর