বইমেলা ঘিরে নিরাপত্তার শঙ্কা নেই: ডিএমপি

আপডেট: February 25, 2026 |
inbound2926403720319715753
print news

২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে চলা অমর একুশে বইমেলা ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছে না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, ‘তারপরও আমাদের যথাযথ ব্যবস্থা আছে’।

তিনি বলেন, “প্রতিবারের মত এবারও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এবার বইমেলাকে ঘিরে কোন আশঙ্ক্ষা নেই।

“ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন বই পর্যবেক্ষণেও পুলিশের নজরদারি থাকবে। আমাদের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট আছে, এরা এটা মনিটর করবে।”

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন।

এবার মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।

আর ছুটির দিন বইমেলা বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

মেলার নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, “মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। বইমেলায় সার্বিক নিরাপত্তার জন্য থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য।

বইমেলা থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইট পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে।

এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লোক সমাগম বেশি হওয়ার কথা মাথায় রেখে সেসব দিনগুলো বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে মেলায় ফুট পেট্রোল ব্যবস্থা ও মুক্তমঞ্চ কেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকার কথাও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

প্রবেশ মুখে নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, “বইমেলার প্রবেশ মুখে মেটাল ডিটেক্টরের পাশাপাশি ম্যানুয়েল চেকিং ব্যবস্থাও থাকবে।

ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও ধার্য পদার্থ নিয়ে কেউ বইমেলায় প্রবেশ করতে পারবে না। ক্লোজ সার্কিট ৩০০ ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ডগ স্কোয়াড দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের এলাকা তল্লাশি করা হবে।

“মেলায় আগত নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে। বইমেলা কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রবেশ মুখে নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ব্যারিকেড স্থাপন করা হবে। বই মেলায় হারানো জিনিস ফেরত দেওয়ার জন্য আলাদা বক্সের ব্যবস্থা থাকবে।”

যান চলাচল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বইমেলাকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজু ভাস্কর্য এলাকায় কোন ভারী যানবাহন প্রবেশ করবে না। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর এলাকায় প্রতিবারের মত এবার সবসময় বন্ধ থাকবে না। সময়ে সময়ে ট্রাফিক রোধে এ রাস্তা খোলা থাকবে। টিএসসি, তিন নেতার মাজার পর্যন্ত যান চলাচল রোধে ব্যারিকেড ও ডাইভারশন দেওয়া হবে।

মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘মহসিন হল মাঠ, ফুলার রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে।

এ সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর