শাহজাদপুরে বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী

আপডেট: February 27, 2026 |
inbound1700540447762713156
print news

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্যের পর এবার বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছে কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে এ তেলবীজ ফসলের আবাদ হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপজেলার জালালপুর, গালা, রূপবাটি ইউনিয়নের বিন্যাদাইর, আন্ধারমানিক ও বড় ধুনাইলসহ বিভিন্ন গ্রামে গত কয়েক মৌসুম ধরে সীমিত আকারে সূর্যমুখীর পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়।

ফলন ও বাজারমূল্য সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার অনেক কৃষক ধান ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষক রুবেল হোসেন জানান, শখের বসেই সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তবে বিনামূল্যে বীজ পেয়েছেন শাহজাদপুর কৃষি অফিস থেকে। আবহাওয়া ভালো থাকায় অনেক ফলন এসেছে।

তিনি আরো বলেন, এবার কাঙ্খিত ফলন পাওয়ায় আগামীতে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে আশানুরূপ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে সূর্যমুখীর জমির পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে।

এছাড়াও উপজেলার আন্ধারমানিক ও বড় ধুনাইল গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, সূর্যমুখী চাষে খরচ তুলনামূলক কম এবং রোগবালাইও কম হয়।

এছাড়া অল্প সময়েই ফলন পাওয়া যায় এবং বাজারে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা থাকায় লাভের সম্ভাবনাও বেশি।

তারা আরো বলেন, সঠিক বাজারব্যবস্থা ও সরকারি প্রণোদনা থাকলে আগামীতে আরো বড় পরিসরে এই ফসলের আবাদ সম্ভব।

শাহজাদপুর উপজেলার কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এলাকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী।

উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ নতুন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে, এতে প্রায় ১০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী বীজ পাওয়া যাবে।

এছাড়াও সরকারি প্রণোদনার ১ কেজি করে কীটনাশক ও ১ কেজি করে সূর্যমুখী বীজ উপজেলার ২০ জন কৃষককে দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে বেশ কিছু মাঠে গাছে হলুদ ফুল ফুটে মনোরম দৃশ্য তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয়দেরও নজর কেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, সূর্যমুখী ফুলের তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর আর কৃষকদের সফলতা অর্জনে নিয়মিত তাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি।

কৃষি বিভাগের আশা, সূর্যমুখীর বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারিত হলে একদিকে যেমন ভোজ্যতেলের ঘাটতি কমবে, অন্যদিকে কৃষকদের আয়ও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শাহজাদপুর ভবিষ্যতে সূর্যমুখী উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর