পুলিশের সহযোগিতায় ৩ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেল বাবা

আপডেট: April 5, 2026 |
fdfdf 3
print news

প্রায় তিন বছর আগে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ী যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় ইদ্রিস মিয়া নামে একটি শিশু।

এরপর থেকে তার পরিবার তাকে খুঁজতে থাকে। এভাবে কেটে যায় তিন বছর। অন্যদিকে পথ হারিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ১১ বছর বয়সী ইদ্রিস কলকারখানাসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করতো আর সেসব স্থানেই ভাসমান অবস্থায় থাকতো।

সে নিজের নাম ও বাবার নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারতো না। তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ইদ্রিসকে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে তার বাবার বুকে ফিরিয়ে দিয়েছে শিবচর থানা পুলিশ।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে জেলার শিবচর উপজেলার উৎরাইল এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করছিল ইদ্রিস। নিজের নাম ও বাবার নাম ছাড়া অন্য কিছু বলতে না পারায় স্থানীয় যুবকেরা তাকে শিবচর থানায় পৌঁছে দেন।

পরে শিবচর থানা পুলিশ শিশুটির পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ইদ্রিসের পরিচয় জানতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রচার করে সন্ধান চাওয়া হয়।
শিবচর থানা পুলিশ জানায়, শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক। হারিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতো।

হাট-বাজার, কলকারখানায় কাজ করতো। এভাবেই তিন বছর কেটে যায়। নিজের এলাকার নাম ঠিকানা না জানায় পৌঁছুতে পারেনি বাড়িতে। রাস্তাঘাটও চিনতো না। শিশুটির পরিচয় শনাক্তের এ প্রচেষ্টার খবর পৌঁছে যায় তার বাবা ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা সজিব মিয়ার কাছে।
পরে তিনি শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং স্বজনদের নিয়ে দ্রুত শিবচরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে শিবচর থানায় পৌঁছে সজিব মিয়া তার ছেলেকে দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পর বাবা-ছেলের এ মিলন মুহূর্তে উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে আসে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রায় তিন বছর আগে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীর আনন্দ বাজার এলাকায় যাওয়ার পথে ইদ্রিস নিখোঁজ হয়েছিল। এরপর থেকে তার পরিবার তাকে খুঁজে ফিরছিল।

পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে শিশুটিকে তার বাবা সজিব মিয়ার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর