বানারীপাড়ায় মিড-ডে মিলে ব্যাপক অনিয়ম: শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্য প্রদান

আপডেট: April 8, 2026 |
inbound551517301560089079
print news

বানারীপাড়া প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়ায় শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে চালু হওয়া ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) কার্যক্রম এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাতে পুষ্টিকর খাবারের বদলে দেওয়া হচ্ছে অখাদ্য, কাঁচা ও অপক্ক কলা, একদিন আগে সিদ্ধ করা ডিম, মেয়াদ বিহীন রুটি —যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা কোমলমতি শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একেবারে সবুজ, অপরিপক্ক কাঁচা কলা, যা কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়। এমন দৃশ্য দেখে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

একজন সচেতন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাই—আপনি কি আপনার নিজের সন্তানের জন্য এমন কাঁচা কলা কিনে খাওয়ান? তাহলে আমাদের অসহায় শিশুদের মুখে কেন এই অখাদ্য খাবার তুলে দেওয়া হচ্ছে?”

এ ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষা প্রশাসন, স্কুল পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়ে একেবারেই উদাসীন?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বানারীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন নেছারাবাদ উপজেলার পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল আহমেদ।

নিম্নমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী খাবার সরবরাহ করায় তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

নেটিজেনদের ভাষ্য— “নিজের সন্তানের জন্য কি এমন খাবার দেওয়া সম্ভব? শুধু মুনাফার আশায় শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

চিকিৎসকদের মতে, অপরিপক্ক বা কাঁচা কলা সরাসরি খেলে শিশুদের হজমে সমস্যা হতে পারে। এতে পুষ্টির পরিবর্তে উল্টো পেটব্যথা বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম’-এর নামে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ এবং শিশুদের সঙ্গে এই প্রহসনের অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বানারীপাড়ার সচেতন নাগরিক সমাজ।

তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর