ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

আপডেট: April 28, 2026 |
inbound8862473786235763393
print news

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে ফিতা কাটা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ জামাল হোসেন।

inbound5028835616636274144

পরে কোর্ট চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। দিবসটি উপলক্ষে লিগ্যাল এইড মেলা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং সেরা প্যানেল আইনজীবীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

জেলা সিভিল জজ মো. মাহামুদুল হোসেন মুন্নার সঞ্চালনায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী এবং লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ মজনু মিয়া।

অনুষ্ঠানস্থল জজ আদালত চত্বরে চারটি স্টল স্থাপন করা হয়, যেখানে লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে এ বছর সেরা প্যানেল আইনজীবী নির্বাচিত হন ললিত কুমার রায় ও মাসুদা পারভিন ইভা।

তাদের সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড অফিসে মোট ৮১৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭১৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এই সময়ে উপকারভোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৩৬ জনে। মামলা দায়ের করা হয়েছে ২২৫টি। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আপসের ফলে ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আদায় হয়েছে।

এছাড়া ৭০৩ জন ব্যক্তি বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে আদালতে বিচারাধীন ১৯১টি মামলা আপসের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ৮টি ক্ষেত্রে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দিতে জেলার ৫টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসব কমিটিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আইনি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা ও মতবিনিময় সভা করছেন লিগ্যাল এইড অফিসার মজনু মিয়া।

লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মজনু মিয়া বলেন, লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা মূলত সেইসব মানুষকে আইনি সহায়তার আওতায় আনতে কাজ করছি, যারা আর্থিক সংকটের কারণে আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারেন না।

আমাদের লক্ষ্য হলো, কোনো নাগরিক যেন শুধুমাত্র টাকার অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন। সরকারিভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু মামলা পরিচালনাই করছি না, পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক বিরোধ আদালতের বাইরে বসেই সমাধান করছি।

এতে একদিকে যেমন মামলার জট কমছে, অন্যদিকে মানুষ দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান পাচ্ছেন। বিশেষ করে পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা এবং আপসযোগ্য ফৌজদারি মামলায় ADR অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, লিগ্যাল এইড কার্যক্রম দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তার মাধ্যমে তাদের আস্থা ও সচেতনতা বাড়ছে। এ সেবার পরিধি আরও বাড়াতে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাবে।

জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ জামাল হোসেন বলেন, অর্থের অভাবে কেউ যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়—এ লক্ষ্যেই লিগ্যাল এইড কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, বিচার ব্যবস্থা সহজলভ্য করতে বিনামূল্যে পরামর্শ ও আইনজীবী সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রত্যন্ত এলাকাতেও এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর