বিকেলে দেশে ফিরছে কারিনার মরদেহ, জানাজা শেষে গজারিয়ায় দাফন

আপডেট: May 17, 2026 |
inbound6918893783569235733
print news

হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এক তরুণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যার উপস্থিতি মানেই ছিল হাসি, গল্প আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা মুহূর্ত। অসুস্থ হওয়ার আগের দিনগুলোতেও স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছিলেন, কথা বলছিলেন, স্বপ্ন দেখছিলেন। হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি। তারপর হাসপাতাল, আইসিইউ, লাইফ সাপোর্ট। শেষ চেষ্টা হিসেবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হলো ভারতের চেন্নাইয়ে। পরিবার, সহকর্মী, ভক্ত—সবাই অপেক্ষায় ছিলেন সুস্থ হয়ে ফেরার খবরে। কিন্তু সব আশা ভেঙে দিয়ে নিথর দেহে আজ দেশে ফিরছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার।

কারিনা কায়সারের মরদেহ আজ রোববার বিকেলে দেশে আনা হবে। তাঁকে বহনকারী বিমানটি বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন তাঁর বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

বিমানবন্দর থেকে কারিনার মরদেহ নেওয়া হবে বনানী ডিওএইচএসে। সেখানে কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ মাগরিব তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর এশার আগে বনানী দরবার শরিফ মসজিদে হবে দ্বিতীয় জানাজা। পরদিন সোমবার বাদ জোহর তৃতীয় জানাজা শেষে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে তাঁকে দাফন করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিনার মায়ের দেওয়া মসজিদের জায়গার পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হবে।

এদিকে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কারিনার জানাজার অনুরোধ জানিয়েছেন ছাত্র ও জুলাই যোদ্ধারা। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন কায়সার হামিদ।

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় গত শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

কায়সার হামিদ গণমাদ্যমকে জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। এরপর লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

বাবা কায়সার হামিদের সঙ্গে হাসিমুখে কারিনা কায়সার। এখন সব স্মৃতিবাবা কায়সার হামিদের সঙ্গে হাসিমুখে কারিনা কায়সার। ছবি: সংগৃহীত

কারিনার জন্ম ১৯৯৪ সালের ১১ নভেম্বর। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর। তিনি মা–বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

কারিনার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা। অনেকেই তাঁর হাসিখুশি স্বভাব, প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার কথা স্মরণ করছেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর