মুশফিকের রেকর্ডময় সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

আপডেট: May 19, 2026 |
inbound5088586258878500500
print news

ফাহিম আহমদ, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে করা মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জয়ের জন্য খাদের কিনারে থাকা পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ দিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

জবাবে তৃতীয় দিন শেষে ২ ওভার ব্যাট করে কোন রান তুলতে পারেনি পাকিস্তান। টেস্ট জয়ের জন্য বাকী দু’দিনে বাংলাদেশের দরকার ১০ উইকেট এবং পাকিস্তানের প্রয়োজন ৪৩৭ রান।

তবে এই টেস্ট জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে পাকিস্তানকে। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

পাঁচ নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৩৩ বলে ১৩৭ রান করেন মুশফিক। এই ইনিংস খেলার পথে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৬ হাজার পূর্ণ করেন তিনি।

৪৭৮ ম্যাচে মুশফিকের রান এখন- ১৬,০৫৮। প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ৪৬ রানের লিডকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২.২ ওভার ব্যাট করে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

মুশফিক ১৩৭ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন। টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ ও পাকিস্তান ২৩২ রান করেছিল। প্রথম টেস্ট ১০৪ রানে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

সিলেটের মাঠে দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১০ রান করেছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

তৃতীয় দিনের পঞ্চম ওভারে পাকিস্তান পেসার খুররাম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরেন শান্ত। ১৫ রান করেন তিনি।

দলীয় ১১৫ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে শান্ত ফেরার পর পাকিস্তানের বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস।

৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিনের প্রথম সেশন শেষ করেন তারা। বিরতির পরও দাপট দেখিয়ে জোড়া হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক-লিটন।

২০তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে পেসার হাসান আলির বলে আউট হন লিটন। ৫টি চারে ৯২ বলে ৬৯ রান করেন তিনি। মুশফিকের সাথে ১২৩ রানের জুটি গড়েন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা লিটন।

এরপর মেহেদি হাসান মিরাজের সাথে ৩৪ ও তাইজুল ইসলামের সাথে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রান যোগ করে চা-বিরতির আগেই বাংলাদেশের লিড সাড়ে তিনশ পার করেন মুশফিক।

দিনের তৃতীয় সেশনে পাকিস্তান পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বলে চার মেরে টেস্টে ১৪তম ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান মুশফিক।

সিলেটের মাটিতে এই প্রথম শতকের দেখা পেলেন তিনি। দুর্দান্ত শতকে সতীর্থ মোমিনুল হককে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন মুশি।

মোমিনুলের আছে ১৩ সেঞ্চুরি। লোয়ার অর্ডারে মিরাজ ১৯, তাইজুল ২২, তাসকিন আহমেদ ৬ ও শরিফুল ইসলাম ১২ রানে আউট হলেও এক প্রান্ত আগলে বাংলাদেশের লিড বড় করছিলেন মুশফিক।

শেষ পর্যন্ত ১০৩তম ওভারে স্পিনার সাজিদ খানের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে আব্বাসকে ক্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন মুশফিক।

১০২.২ ওভার ব্যাট করে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এতে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় টাইগাররা। শাহজাদ ৪টি, সাজিদ ৩টি ও হাসান ২টি উইকেট নেন।

৪৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দিনের শেষভাগে ২ ওভার ব্যাট করে কোন রান তুলতে পারেনি পাকিস্তান টিম। সংক্ষিপ্ত স্কোর বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ১০২.২ ওভারে ৩৯০ (মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, মাহমুদুল ৫২, ; খুররম ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬)। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ (বাবর ৬৮, সাজিদ ৩৮, শান ৫৪; নাহিদ রানা ৩/৬০, তাইজুল ৩/৬৭, মিরাজ ২/২১, তাসকিন

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর