পুতিনকে জেলেনস্কির খোলা চিঠি, সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব

আপডেট: June 5, 2026 |
inbound8433296768291836916
print news

যুদ্ধ থামানোর নতুন এক প্রচেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

রুশ প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে লেখা এক খোলা চিঠিতে ইউক্রেইনের নেতা বলেছেন, ইউরোপের এই যুদ্ধ কখন আবার যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরবে, সেজন্য অপেক্ষা করে থাকা ‘ভুল হবে’।

তিনি বলেন, কেবল ইউক্রেইন ও রাশিয়ার ‘সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই’ শান্তি আসতে পারে।

বিবিসি লিখেছে, চিঠিতে জেলেনস্কি প্রস্তাবিত আলোচনার পুরো সময় জুড়ে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। তবে এর আগে বৃহস্পতিবারই এ ধরনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন পুতিন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, দুই নেতা বৈঠকে বসলে তা ‘খুবই ভালো হবে’ বলে তিনি মনে করেন।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা চিঠিটি পেয়েছে এবং এ বিষয়ে পুতিনকে বিস্তারিত জানানো হবে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১,৮০০ শব্দের ওই চিঠিটির সুর ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং, এমনকি কিছুটা উপহাসমূলক। বিশেষ করে রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেইনের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর দিকে পুতিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জেলেনস্কি।

চিঠিতে তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর, বয়স এখন পুতিনের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

তবে একই সঙ্গে চিঠিতে একটি আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। জেলেনস্কি লিখেছেন, “ইউক্রেইন আমাদের এবং আপনার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রস্তাব দিচ্ছে, আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব করছি।”

ইউক্রেইনীয় নেতার পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রস্তাব অবশ্য এবারই প্রথম নয়।

ক্রেমলিন এ প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় বরাবরের মতই বলেছে, জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতে এসে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।

তবে এই চিঠির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, যুক্তরাষ্ট্র যে এখন পুরোপুরি ইরান সংকট নিয়ে ব্যস্ত, তা কিইভের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, তিনি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত হলেও ইউক্রেইনকে কিছু আপস করতে হবে।

পুতিন ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প যেহেতু এখন ইরান নিয়ে ব্যস্ত, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাইলে জেলেনস্কিকে ইউক্রেইনের ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে আত্মসমর্পণ করতে রাজি করাতে পারে।

রাশিয়ার দীর্ঘদিনের দাবি হল, ইউক্রেইনকে তাদের আংশিক দখলকৃত চারটি অঞ্চল (দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া) থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নেটো জোটে যোগদানের চেষ্টা ত্যাগ করতে হবে।

তবে ইউক্রেইন ভূমি ছাড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে।

তাছাড়া জেলেনস্কির প্রেসিডেন্ট পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুতিন এই বৈঠক বা চুক্তি আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, “মি. জেলেনস্কি ইউক্রেইনের বৈধ প্রতিনিধি কি না, তা এখন আইনি বিশ্লেষণের বিষয়।”

এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশকে শান্তির কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি তাদের বৈঠক করা উচিত, এটি দারুণ হবে। কাজটি শেষ করুন।”

দুই পক্ষকে কী ধরনের আপস করতে হবে–এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার এই বিষয়ে কিছু না বলাই ভালো। তবে আমি চাই তারা প্রত্যেকেই কিছু বিষয়ে আপস করুক এবং আমার বিশ্বাস তারা তা করবে।”

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর