পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে ‘পুশ ইন’ চেষ্টার শিকার নারী, শিশুসহ ১০ জনকে ৬৯ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি বন্ধ করে ওই ১০ জনকে নিজেদের ভূখণ্ডের দিকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
এর আগে গত শুক্রবার ভোরে ওই সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এর পর থেকে কখনো রোদ, আবার কখনো বজ্রবৃষ্টির মধ্যেই তারা শূন্যরেখার একটি ফসলি জমির সরু আলে তারা অবস্থান করছিলেন।
শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে গতকাল রাত ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ৬৯ ঘণ্টার বেশি সময় কোনো দেশই তাদের নিজ নিজ সীমান্তে প্রবেশ করতে দেয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি জমে থাকা সরু আলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে অবস্থান করছিলেন তারা। পুশ ইন চেষ্টার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনটি শিশু।
এ ঘটনায় গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে বাংলাদেশের নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শুক্রবার বিজিবির বড়বাড়ি বিওপি ও বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়েও পতাকা বৈঠক হয়। তবে দুই দফার বৈঠকেই কোনো সমাধান হয়নি।
হাড়িভাসা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাসিবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই সময় বৃষ্টিতে ভিজে নারী-শিশুসহ ওই ১০ জন শূন্যরেখায় ছিলেন। পরে রাত আড়াইটার পর হালকা বৃষ্টির সময় বিএসএফ সদস্যরা এসে ওই ১০ জনকে তাদের দিকে (ভারতের দিকে) নিয়ে গেছে। তিন দিন ধরে রোদ-বৃষ্টিতে ওখানে থাকা বাচ্চা আর নারীদের কষ্ট দেখে খুবই খারাপ লাগছিল। বাড়িতে খেতে বসলেই ওই বাচ্চাদের চেহারা চোখে ভাসে। ঠিকমতো খেতে পারছিলাম না। নিয়ে গেছে ভালোই হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষও স্বস্তি পেয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল রাত ২টা ৪০ মিনিটে বিএসএফ তাদের সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে শূন্যরেখায় থাকা নারী, শিশুসহ ওই ১০ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছে। সীমান্তে পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি অব্যাহত আছে।














